

অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমস সহ প্রভাবশালী বিদেশি পত্রিকাগুলো একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে রোববার ভোট শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের সার্বিক চিত্র ও এর ফলাফল নিয়ে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকেও নীরব থাকতে দেখা গেছে প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোকে। তারপরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে ভারতীয় পত্রিকাগুলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নিশ্চিত বিজয় হতে যাচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে। তবে সব প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি।
কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বাংলাদেশের নির্বাচনকে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের টানা চতুর্থ জয়ের খবর দিয়ে তারা প্রতিবেদনটির শিরোনাম করেছে—‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে বাংলাদেশ নির্বাচন করেছে’।
বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ভোটাভুটি শেষ হয়েছে এবং গণনা চলছে। এই নির্বাচন ভোটারের কম উপস্থিতি এবং বিরোধী দল ও তার মিত্রদের বর্জন দ্বারা চিহ্নিত।
আরও বলা হয়েছে, বিরোধী দলের বর্জনের মুখে একতরফা ভোটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টানা চতুর্থ এবং সামগ্রিকভাবে পঞ্চম মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে প্রস্তুত।
বিএনপির বর্জনের খবর দিয়ে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়—২০১৪ সালেও বিরোধীরা একই ধরনের বর্জন করেছিল।
৪০ শতাংশ ভোট পড়ার খবর দিয়ে ভারতীয় বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আগামী মঙ্গলবার থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। বিরোধী দল এই নির্বাচনকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছে এবং বিরোধী দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর মেয়াদ বাড়িয়েছেন—এমন শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিরোধী দল ও ভোটারদের বর্জন করা একটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল অর্ধেকের বেশি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করার পর তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নারী সরকার প্রধানের খেতাব বজায় রাখবেন। রাত ১২টায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটিতে তখন পর্যন্ত ২৯৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৫৭টি আসনে বিজয় নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচনের পর বিরোধী দল বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার খবর দিয়েছে দেবডিসকোর্স নামে একটি ভারতীয় পত্রিকাও।
ভারতীয় অন্যান্য পত্রিকাগুলোতে শেখ হাসিনার বিজয়ের খবর দেওয়া ছাড়াও নির্বাচনের ছোটখাটো অনেক বিষয় নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে সাকিবের নির্বাচিত হওয়া, দুটি ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটারও উপস্থিত না হওয়ার মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
এদিকে ভারতীয় বাংলা ভাষার পত্রিকা ‘এই সময়’ একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে—‘বাংলাদেশের অর্ধেক ভোটারও দিল না ভোট? নির্বাচন কমিশনের তথ্যে শোরগোল’।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। আর ভোট শেষ হওয়ার পরে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, সারা দেশে গড়ে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, শেষ এক ঘণ্টায় ভোট পড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।