বিধি উপেক্ষা করে নদীতে জেলেরা

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual7 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা
করোনার বিধি নিষেধ না মেনে মোংলায় কয়েক’শ নারী-পুরুষ অবাধে নদ-নদীতে চিংড়ি পোনা আহরণ করছেন। সরকারের নিদের্শনা না মেনে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে পোনা আহরণের যত্রতত্র এ কার্যক্রম। উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনিরঘোলে এমন চিত্র দেখা গেছে। চিংড়ি পোনা আহরণকারী জেলেরা বলছেন, পেটের দায়ে তারা নদীতে মাছ ধরতে নামছেন। তবে স্থানীয় সচেতন লোকজন বলছেন, পোনা আহরণ করতে গিয়ে করোনার সংক্রমণ বাড়াতে পারে ওইসব (জেলে) অসচেতন মানুষগুলো।
শুক্রবার সরেজমিনে জয়মনিরঘোলে গিয়ে দেখা যায়, করোনা সংক্রমণ রোধে সারাদেশে সরকারী নির্দেশনা মেনে মানুষ যখন নিজ গৃহে অবস্থান করছেন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ কর্ম ও চলাফেরা করছেন, ঠিক তখনই একেবারে ভিন্ন চিত্র মোংলার জয়মনিরঘোলের পশুর নদী ও নদীর দু’পাড় জুড়ে। কয়েক’শ নারী-পুরুষ দল বেঁধে নদীতে নিষিদ্ধ নেট জাল দিয়ে চিংড়ির পোনা আহরণ করছেন। এ সময় কথা হয় স্থানীয় জেলে আব্দুল মালেক, রহিমন বেগম, আমির হোসেন ও জাহানারা বেগমের সাথে। তারা বলেন, করোনা নিয়ে নয়, তাদের চিন্তা শুধুমাত্র খাদ্যের যোগান নিয়ে। পেটে যদি না মানে, মৃত্যুর ভয় করে লাভ আছে? মৃত্যুতো একদিন হবে। ঘরে চাল নাই, ছেলে মেয়েদের খাবার কে দিবে? তাই নদীতে নেমেছি। আরেক জেলে বলেন, আজ মাছ না ধরলে কাল না খেয়ে থাকতে হবে, এই সময় যে ত্রাণ পাচ্ছি দুই কেজি চাল, দুই কেজি আলু, আর ডাল। তা দিয়ে দু’বেলা চলে, তারপর?
চিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, জেলেদের কোনভাবেই বুঝানো যাচ্ছেনা। সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে যত্রতত্র পোনা আহরণের কারণে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি রয়েছে।
পরিবেশবাদী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নুর আলম শেখ বলেন, বিশ্বব্যাপী যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ঘনত্বের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ ঘোষিত যে খাল বা নদীতে জেলেরা অবাধে মাছ ধরছে সেখানে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। এবং এ সকল জেলেদের পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দিয়ে ঘরে রাখা জরুরী।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে যখন নিজ নিজ ঘরে আবদ্ধ মানুষ, তখন মোংলা জয়মনি নৌ থানার মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে যত্রতত্র নারী-পুরুষদের পোনা আহরণ কতুটুকু যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে নৌ থানার ওসি মোঃ আবুল হোসেন শরিফ বলেন, এখানকার জেলেরা অত্যন্ত গরীব মানুষ, পেটের দায়ে, অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়েছে তাদের কি করবো বলেন। তারপরও এসব ঠেকাতে মাঝে মধ্যে আমরা অভিযান চালাচ্ছি বলে দাবী করেন তিনি।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code