

বিশেষ প্রতিবেদন: বলতে গেলে প্রতিদিনই বিষের সংস্পর্শে আসছি আমরা। আমাদের অসচেতনতায় প্রতিনিয়ত নানা পণ্যে ভর করে বিষ ঢুকছে শরীরে। এ তালিকায় শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নিয়ে এখনই সচেতন না হলে ভয়ানক পরিণতি মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। খাদ্যে ভেজাল ও নিম্নমানের প্রসাধনীর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন আতঙ্ক—নিম্নমানের প্লাস্টিক পণ্য, খেলনা ও মানি রিসিপ্ট। এটিএম বুথ থেকে শুরু করে যেকোনও দোকানেই এখন মুদ্রিত রসিদ দেওয়া হয়। যে কালিতে এটি প্রিন্ট করা হয় সেটাই বিষাক্ত। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশাল ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন এসডো’র গবেষণা বলছে মানি রিসিপ্ট ও সস্তা খেলনায় বিপিএ-এর সঙ্গে বিপিএস-ও পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক অঙ্গনে এ নিয়ে প্রচলিত স্লোগানটা হলো ‘ট্রানজেকশন উইথ টক্সিনস’।
৩৯টি স্থান (দোকান, শপিং মল) থেকে নেওয়া মানি রিসিপ্টের ২৭টিতে বিপিএ ও ১০টিতে বিপিএস পাওয়া গেছে। এসব নমুনায় বিপিএ’র মাত্রা ছিল ০.৮৩-১.৭১ শতাংশ এবং বিপিএস ছিল ০.৬১-০.৯৬ শতাংশ। অথচ ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য মাত্রা ০.০২ শতাংশ। গবেষণা বলছে, মানি রিসিপ্ট থেকে বিপিএ বা বিপিএস মানুষের হাতে আসে ও ত্বক ভেদ করে রক্তে মেশে। বিশেষ করে ভেজা হাতে রিসিপ্ট স্পর্শ করলেই এই বিষ শোষণের হার সাতগুণ বেড়ে যায়।
গবেষকরা তাই মানি রিসিপ্টকে সবসময় শুকনো হাতে ধরতে বলেছেন। এছাড়া এটাকে সংরক্ষণ না করে নির্ধারিত ময়লার ঝুড়িতে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দেওয়া উচিত বলেও জানান তারা।