বিসিবির খরচের হাত এত লম্বা!

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ করোনা মহামারির দরুন অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ড আর্থিক সংকটে পড়েছে। বিসিবিতে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং লাভবান হয়েছে। এ সময়ে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম কম থাকলেও খরচ থেমে থাকেনি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে ২২ কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৯৬৩ টাকা আদায় করতে না পারায় মওকুফ করে দিয়েছে বিসিবি। এছাড়া বিভিন্ন স্পন্সর ও অন্যদের কাছে ১ কোটি ৯ লাখ ২৭ হাজার ৫১০ টাকা পাওনা আদায় করতে না পারায় অডিটে অনাদায়ী সঞ্চিতি দেখানো হয়েছে। এত ব্যয় কেন এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

Manual8 Ad Code

বিসিবি বলছে করোনাকালে কোনো কাজ করতে পারেনি তারা। অথচ, এই সময়ে খরচের খাতা দেখলে চোখ কপালে উঠবে! ২০২০-২০২১-এ বিসিবির আয় ধরা হয়েছে ২২৪,৯৫,৮৫,০০০ টাকা। এই সময়ে খরচ দেখানো হয়েছে ২০৩,৬৮,১১,৭২৬ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিসিবির আয় হয়েছে ২৪৩,৬১,৫৮,৭৭২ টাকা। এই সময়ে ব্যয় হয়েছে ১৮৮,৫১,৪৯,৭৯৫ টাকা। অথচ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২২৩,৭৩,৪৭,০২১ টাকা আয় হয়েছে। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১৭১,৫৮,৭৫,৮৬৭ টাকা। করোনায় দীর্ঘদিন মাঠে ক্রিকেট না থাকলেও বিসিবির আয়ে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। এত অর্থ কোথায় ব্যয় হলো সেটাই বড় প্রশ্ন। তবে করোনার মধ্যেও সর্বশেষ তিন বছরে বিসিবির আয় বাড়বে প্রায় তিনগুণ।

Manual4 Ad Code

বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে হয়ে গেল বিসিবির দশম বার্ষিক সাধারণ সভা। সভায় বিসিবির আর্থিক বিষয়গুলো বিতর্ক ছাড়াই পাশ হয়েছে। কাউন্সিলরদের সন্তুষ্ট করার জন্য বিসিবি চোখধাঁধানো উপহার দিয়েছে। সভায় জেলার কাউন্সিলররা দশ লাখ টাকা করে বার্ষিক অনুদান চেয়েছেন। তারা বছরে পেয়ে থাকেন দুই লাখ টাকা। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান কাউন্সিলরদের জানিয়েছেন, নিয়মিত জেলা লিগ আয়োজন না করলে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে কেটে নেওয়া হবে। এজিএমে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে মাঠ কেনা। শিশুদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিসিবি নিজস্ব অর্থে জমি কিনে মাঠ তৈরি করবে। নাজমুল হাসান বিসিবির সভাপতি হওয়ার পর আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা করার কথা বলে আসছেন। তবে এখন বিসিবির কাছে এটা করা খুবই কঠিন বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে আইপিএলের প্রথম ও দ্বিতীয় আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছে বকেয়া ছিল ১৭ কোটি ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৪০ টাকা। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছে বকেয়া ৫ কোটি ৬৪ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৩ টাকা। এই অর্থ আর আদায় করা সম্ভব হবে না ধরে নিয়ে বিসিবি তা মওকুফ করে দিয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বিসিবির কাছে স্থিতি আছে ৮৩২ কোটি ৬৮ লাখ ৬৭ হাজার ১০ টাকা। দুই বছর আগের চেয়ে যা প্রায় দেড়শ কোটি টাকা বেশি। বিসিবি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এফডিআর থেকে সুদ হিসাবে পেয়েছে ৫৪ কোটি ৭৮ লাখ ৫ হাজার ১২১ টাকা। এই অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে ৫২ কোটিরও বেশি। চলতি বছরে বিসিবি ২১ কোটিরও বেশি টাকা উদ্বৃত্ত রাখার আশা করছে। শ্রীলংকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড যেখানে অর্থের জন্য হাহাকার করছে, সেখানে বিসিবি তিন বছরের হিসাবে প্রায় ছয়শ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব পাশ করেছে এই এজিএমে। অর্থের ঝনঝনানির পরও বাংলাদেশের ক্রিকেট কাঠামোর কতটা উন্নতি হয়েছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code