ভারতের পরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা: জোটনিরপেক্ষ কূটনীতির এই যখন ইতিহাস, তখন কীভাবে আশা করা যায় যে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সেই পুরোনো কূটনীতিই কাজে লাগবে? বিশেষত যখন ভারতকে ঠেকাতে চীন ও পাকিস্তান একজোট হচ্ছে? ভারতের শান্তি-স্থিতিশীলতার প্রতি সবচেয়ে বড় হুমকি রয়েছে তার সীমান্তগুলোয়, বিশেষত হিমালয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে সীমান্তে। এটা পৃথিবীর দীর্ঘতম বিরোধপূর্ণ সীমান্ত। সেখানকার অনিশ্চয়তা সন্ত্রাসবাদী শক্তিগুলোর প্রবেশের ক্ষেত্রে সহায়ক হচ্ছে, যারা ভারতে ভূখণ্ডগত ঐক্যহানি ঘটাতে চায়; জাতিগোষ্ঠীগত ও ধর্মীয়-সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব-বিরোধের বীজ বপনও চলছে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভারতকে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করে আসতে হচ্ছে; কিন্তু এখন এই সমস্যা প্রভাবিত করছে আফগানিস্তান, চীন, পাকিস্তানসহ পুরো অঞ্চলকেই। আর ইসলামি জঙ্গিবাদ যখন ভারতীয় সীমান্তের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে, তখন আরব বিশ্বের বিপর্যয় মোকাবিলার
দায়িত্ব অন্যদের ওপর ছেড়ে দিয়ে ভারত আর নিশ্চিন্ত থাকতে পারে না। বরং সেখানে ভারতকে অবশ্যই একটি সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এর অর্থ, ভারতকে নতুন নতুন কৌশলগত মৈত্রী গড়ে তুলতে হবে। সন্ত্রাসবাদীরা যেমন বহুমুখী আক্রমণের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, তেমনই তাদের মোকাবিলা করার জন্য যেসব দেশ তাদের দিক থেকে হুমকির মুখে আছে, তাদেরও বহুমুখী প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে হবে।
ভারতকে প্রথমত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কে বরফ গলাকে স্বাগত জানাতে হবে এবং তা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। ওই দুটি দেশই যেহেতু ভারতের বন্ধু এবং যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ভারতের অনেক অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে, সেহেতু কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহযোগিতার দুয়ার খুলতে প্রয়োজন ভারতে একটি করিতকর্মা সরকার।
ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভিয়েতনামের সমন্বয়ে একটি কৌশলগত জোট সহজেই গঠন করা যায়। এর কোনো শরিকের জন্য চীন বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি না করেই এ জোট গঠন করা যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নবায়নের জন্যও ভারতের সক্রিয়ভাবে কাজ করা উচিত, এ অঞ্চলকে চীনের হাতে ছেড়ে দিলে চলবে না।
পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে ইসলামি জঙ্গিবাদের যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে ব্যাপারে ভারতকে অবশ্যই চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কৌশলগত বোঝাপড়া গড়ে তুলতে হবে। এই বোঝাপড়ায় পৌঁছানো অবশ্যই কঠিন, কারণ আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ভারত, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। তা সত্ত্বেও একধরনের বোঝাপড়া সম্ভব এবং তা জরুরিও বটে; কারণ, আফগানিস্তানে আবার গৃহযুদ্ধ বেধে যাক কিংবা দেশটি আবারও সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিতে পরিণত হোক—এটা কেউই চায় না, এমনকি পাকিস্তানও নয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code