ভারত লাগাম না টানলে শুল্ক কমবে না, হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৮ মাস আগে

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Manual3 Ad Code

ভারত যদি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ না আনে, তবে দেশটির পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানো হবে না বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হাসেট এ হুঁশিয়ারি দেন। বুধবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কেভিন হাসেট বলেন, ভারত রুশ তেলের ব্যবসায় লাগাম না টানতে পারলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় আমদানি পণ্যের ওপর বাড়তি জরিমানাস্বরূপ আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করবেন না। মার্কিন ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক হাসেট ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনাকে ‘‘জটিল’’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মার্কিন পণ্যের জন্য ভারত যথেষ্ট বাজার উন্মুক্ত করছে না। ‘‘ভারত যদি অবস্থান না বদলায়, তাহলে আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও অবস্থান পরিবর্তন করবেন না,’’ মন্তব্য করেন হাসেট।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা বর্তমানে ব্রাজিল ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও চাপিয়েছে ওয়াশিংটন।

Manual1 Ad Code

হাসেট আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার জটিলতার একটি কারণ হলো রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা। একইসঙ্গে মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খোলার বিষয়ে ভারতীয়দের অনীহাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনাকে তিনি ‘‘ম্যারাথন’’ এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘‘দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া এই আলোচনায় সফলতা আসবে না। উত্থান-পতন স্বাভাবিক চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে উভয়পক্ষকে সেগুলো মেনে নিতে হবে।’’

কেভিন হাসেটের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও। তিনি আগেই বলেছিলেন, ভারতের ওপর বাড়তি শুল্ক শুধু রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তির জটিলতার কারণেও আরোপিত হয়েছে।

বুধবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘‘আমি ভেবেছিলাম মে বা জুনে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব, হয়তো ভারতই প্রথম স্বাক্ষর করবে। কিন্তু তারা ধীরে এগিয়েছে।’’ তার দাবি, আলোচনার সময় নয়াদিল্লি কিছুটা অসহযোগী আচরণ করেছে, ফলে সম্পর্ক ‘‘খুব জটিল’’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে আশাবাদী মন্তব্যও করেন তিনি—‘‘ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত আমরা সমঝোতায় পৌঁছাব।’’

অন্যদিকে ভারত স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকারে তারা প্রস্তুত নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থে তিনি কখনো আপস করবেন না।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের কারণে প্রায় ৪৮.২ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও প্রাথমিকভাবে প্রভাব সীমিত বলে মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Manual5 Ad Code

সূত্র: এনডিটিভি

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • ভারত লাগাম না টানলে শুল্ক কমবে না
  • হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের
  • Manual1 Ad Code
    Manual4 Ad Code