

মনিরামপুর (যশোর) :
চলতি বোরো মৌসুমে যশোরের মনিরামপুরে ধানের বাম্পার ফলন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গের আভাষ মিলেছে। প্রাথমিক ক্রপ কাটিং-এ (নমুনা শস্য কর্তন) বিঘা প্রতি প্রায় ২৭ মন ধান ফলনের প্রমান মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস দাবি করেছে।
কিন্তু ধান ক্ষেত থেকে ঘরে তোলার মুহুর্তে আকস্মিক বৃষ্টিতে কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন। ধানের বাম্পার ফলন আর বাজার দর ভাল থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও প্রকৃতির বৈরী আচরনে কৃষকরে কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। ধানের পাশাপাশি খরচ পুষিয়ে নিতে বিচালি (গোখাদ্য) বিক্রি করে থাকেন কৃষক। কিন্তু সেখানেও এবার দেখা দিয়েছে বিপত্তি। ক্ষেতে পানি জমায় গোখাদ্যের উপযুক্ত করা নিয়েও চিন্তায় কৃষক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২৭ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ১শ’ হেক্টর কম। রোববার উপজেলার নিাগোগোপ মাঠে ক্রপ কাটিং-এ (নমুনা শস্য কর্তন) ধানের ফলনে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গের প্রমান মিলেছে। নাগোঘোপ এসএমই বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের এ মাঠে ২০ বর্গমিটার ক্রপ কাটিং-এ ১৯.২৩০কেজি ধানের ফলন পাওয়া গেছে। এতে (কাঁচা আদ্রতা ২৮% এবং শুকনো আদ্রতা ১৪%) প্রতি হেক্টরে ৮ মেট্রিক টন (বিঘা প্রতি ২৬.৬৬ মন) ধান পলনের প্রমান মিলেছে। তারা হেক্টর প্রতি গড়ে ৬.২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছেন। যা বিগত বছরে গড়ে ৫.৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে।
গাঙ্গুলিয়া গ্রামের রিপন হোসেন জানান, ‘ধানের ফলন ভাল হলিও আমাগের মনে শান্তি নেই, থাইয়ে থাইয়ে (হঠাৎ) পানি আসায় ধানের ভুইতি (ধানের ক্ষেত) পানি জমে ধান কলাই জাতেছে। মেলা দাম দিয়েও জন (শ্রমিক) পাওয়া জাতেছ (যাচ্ছে) না।’
কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, কৃষকদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ৫ টি সম্মিলিত হারভেস্টার ( ধান কাটা, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দীকারি যন্ত্র) মেশিন দিয়ে ধান কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।