মাস্ক বানায় না ইতালি, এখনই ১ কোটি প্রয়োজন

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায় ব্যাপক মাস্ক সংকটে পড়েছে ইতালি। দেশটি মাস্ক তৈরি করে না। রফতানির ওপরই নির্ভর করতে হয় তাদের। বিশ্বজুড়ে মহামারীর মতো করোনা ছড়ানোয় চরম বিপদে পড়েছে ইতালি।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুধু ৮ লাখ মাস্ক পেয়েছে দেশটি। এখনই জরুরিভিত্তিতে ১ কোটি মাস্ক প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এদিকে যে কোনো ধরনের মাস্ক বিদেশে রফতানি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়া।

 

Manual8 Ad Code

শুধু ‘রেসপিরেটরি মাস্ক’ই নয়, এখন থেকে আর রফতানি করা হবে না বায়ুবাহিত ধূলিকণা প্রতিরোধী সরঞ্জাম ও ভাইরাস সুরক্ষামূলক পোশাক হাজমাত স্যুটও। দেশের মানুষের প্রয়োজন পূরণ নিশ্চিত করতে বুধবার এ পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। খবর এএফপির।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা মহামারী। ফলে ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে মাস্ক, হাতধোয়া সাবান ও সুরক্ষামূলক মেডিকেল সরঞ্জামের চাহিদা। সেই সঙ্গে এসবের দামও।

অতিরিক্ত চাহিদার মধ্যে এর আগে প্রথম দেশ হিসেবে মাস্ক রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। ফলে দেশটি থেকে কোনো ধরনের মাস্ক এখন আর বিদেশে যাচ্ছে না। দ্বিতীয় দেশ হিসেবে মাস্ক রফতানি নিষিদ্ধ করল রাশিয়া।

Manual5 Ad Code

বুধবার প্রকাশিত এক ডিক্রি জারি করে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়। বিবৃতি অনুসারে, ফেইস মাস্ক, প্লাস্টিক জুতার কাভার, গ্লাভস, সার্জিক্যাল স্ক্রাব, গ্যাস মাস্ক, হাজমাত স্যুট ও মহামারীরোধী স্যুটসহ মোট ১৭ ধরনের মেডিকেল সরঞ্জাম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সোমবার থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। শেষ হবে আগামী ১ জুন।

রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেস থেকে ফিরিয়ে আক্রান্ত তিন নাগরিক রয়েছে। প্রথম আক্রান্ত হয় মস্কোর এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি সম্প্রতি ইতালি সফর শেষে ফিরে আসে।

আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও অন্যান্য দেশের মতোই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নতুন করে চীন, ইরান ও ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্রমণ একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার। করোনায় ইতালিতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই।

Manual4 Ad Code

একইসঙ্গে দেশটিতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। বুধবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের বরাতে এএএফপি জানায়, ইতালিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ২৬৩ জন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবিলম্বেই চিকিৎসা উপকরণে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এ সংকট মোকাবেলায় মেডিকেল কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন ৪০ শতাংশ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

জেনেভায় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ৩.৪ শতাংশ, যা মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহারের (এক শতাংশ) চেয়ে অনেক বেশি।

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নতুন এ করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১১০ জনে।

Manual7 Ad Code

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কভিড-১৯ এর উপস্থিতি চীনের বাইরেই বেশি দেখা যাচ্ছে। ইরানের পাশাপাশি ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসটির সংক্রমণ বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code