মিয়ানমারে ভূমিকম্প: বৃষ্টি-গরমে বেড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে বৃষ্টিপাত ও গরম আবহাওয়া। গতকাল শনিবার ও আজ রোববার দেশটিতে বৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাহত হয়েছে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সরবরাহ। এরই মধ্যে দেশটিতে ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৭১। ২৮ মার্চ মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর পাশাপাশি এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪ হাজার ৬৭১ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ ২১৪ জন। এ ছাড়া ভূমিকম্পে ৫ হাজার ২২৩টি ভবন, ১ হাজার ৮২৪টি মন্দির ও প্যাগোডা, ১৬৭টি হাসপাতাল, ১৬৯টি সেতু, ১৯৮টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Manual7 Ad Code

জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের শহর মান্দালয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট বৃষ্টি হয়। শহরটিতে এখনো মানুষ ভয়ে ঘরে ফেরেননি। খোলা আকাশের নিচে তাঁদের অনেক তাঁবু বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ভেঙে গেছে। পর্যাপ্ত ত্রিপলের অভাবে অনেক মানুষকে তাঁদের জিনিসপত্রসহ বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টিপাতের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মরদেহগুলো বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা। এমন শঙ্কার মধ্যে আজ সকালে আবারও মান্দালয়ে বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠবে এবং আরও বৃষ্টি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইউএনডিপির কর্মকর্তা টান টান বলেন, আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করেছে।

Manual4 Ad Code

বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড গরমের কারণে খোলা আকাশের নিচে গড়ে তোলা সাময়িক আশ্রয়শিবিরগুলোতে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আজ জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাসংক্রান্ত সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টন ফ্লেচার বলেছেন, উপদ্রুত এলাকাগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা মেরামত করা দরকার। অনেক মানুষ এখনো থাকার মতো কোনো আশ্রয় পাননি। তাঁদের জন্য তাঁবু প্রয়োজন। ২৮ মার্চের ভূমিকম্পে মিয়ানমারের পরেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনই নিহত হয়েছেন রাজধানী ব্যাংককে ৩৩ তলা একটি ভবন ধসে। ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৭৭ জন আটকা রয়েছেন।

Manual7 Ad Code

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে জান্তা
আগে থেকেই মিয়ানমারের অবস্থা বেহাল। ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক জান্তা। তখন থেকে জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র যোদ্ধাদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর লড়াই চলছে। চার বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে ভূমিকম্প উপদ্রুত এলাকার ৫ কোটির বেশি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো জটিল হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ত্রাণ সরবরাহের জন্য ২ এপ্রিল থেকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে জান্তা সরকার। তবে নিজেদের দেওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে এখন পর্যন্ত বিদ্রোহীদের ওপর অন্তত ১৬টি হামলা চালিয়েছে তারা। এরই মধ্যে শনিবার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তা টম ফ্লেচার। মিয়ানমারে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ‘জোরদার, সমন্বিত ও সামষ্টিক’ পদক্ষেপ নিতে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code