মুমিনের বৈশিষ্ট্য ক্ষমা করা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code
ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। মানুষের মধ্যে মহৎ গুণের অন্যতম একটি গুণ হচ্ছে ‘ক্ষমাশীলতা’ সর্বোৎকৃষ্ট এ গুণ মানুষকে মহৎ বানায়। সম্মান বাড়ায়। পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় করে।

আল্লাহর অপার ভালোবাসা পাওয়া যায়। এ কথাও সত্য যে, কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই বলে কারও ভুলের কারণে তার প্রতি রাগ দেখানো, বিদ্বেষ পোষণ করা বড় নিন্দনীয় কাজ। এমনটি করা উচিতও নয়।

Manual1 Ad Code

বিপরীতে মানুষের মার্জনা ক্ষমা করা উত্তম কাজ। এতে মানুষের কাছে নিজের মান-মর্যাদা বাড়ে। আল্লাহরও প্রিয় বান্দা হওয়া যায়। কারণ আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি সবাইকে ক্ষমা করতে ভালোবাসেন এবং যারা অন্যকে ক্ষমা করে তাদেরও ভালোবাসেন।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যারা মানুষকে ক্ষমা করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।’ (আল ইমরান : ১৩৪)। ভুল-ত্রুটি মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কমবেশ ভুলভ্রান্তি সবাই করে। প্রকৃত মানুষ কৃত ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে সংশোধন করতে চেষ্টা করে।

Manual2 Ad Code

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা আরও বলেন, ‘আর অন্যায়ের প্রতিশোধ অন্যায় অনুপাতে হয়ে থাকে। কিন্তু অন্যায়কারীকে শোধরানোর উদ্দেশ্যে যে ক্ষমা করে তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে রয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা আশ শুআরা, ৪০)। মহান আল্লাহতায়ালার অন্যতম একটি গুণ হচ্ছে তিনি ক্ষমাশীল। তিনি বান্দাদের ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। তাই তিনি নবীজি (সা.) কেউ এ মহৎ গুণ অর্জনে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, (হে নবী) আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং মানুষকে ভালো বিষয়ের আদেশ করুন। আর মূর্খদের উপেক্ষা করুন।’ (সূরা আরাফ : ১৯৯)।

Manual6 Ad Code

অন্যকে ক্ষমা করা এবং মানুষের ভুলের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করার উজ্জ্বল উদাহরণ ছিলেন নবীজি (সা.)।

বুখারির হাদিসে এসেছে, আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি নবীজির সঙ্গে হাঁটছিলাম। তাঁর পরনে ছিল মোটা কাপড়বিশিষ্ট একটি ইয়েমেনি চাদর। এক বেদুইন নবীজির কাছে এসে সেই চাদর ধরে সজোরে টান দিল। আমি দেখলাম মোটা কাপড়ের ঘষায় নবীজির কাঁধে দাগ বসে গেল। লোকটি কর্কশস্বরে নবীজিকে বলল, ‘আল্লাহর যে মাল তোমার কাছে আছে তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলো!’ নবীজি (সা.) লোকটির দিকে ফিরে তাকালেন এবং মুচকি হাসলেন। এর পর তাকে কিছু দেওয়ার আদেশ করলেন। (৩১৪৯)

Manual1 Ad Code

নবীজির এ মুগ্ধকর আচরণের প্রশংসা আল্লাহতায়ালা কুরআনে পাকে তুলে ধরে বলেন, ‘আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি বিনম্র থেকেছেন। আপনি যদি কর্কশ ও কঠোর মনের হতেন, তাহলে এরা সবাই আপনার চারপাশ থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ত। সুতরাং তাদের ক্ষমা করুন, তাদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করুন।’ (সূরা আল ইমরান-১৫৯)।

মানুষের ভুলত্রুটি কড়ায়গণ্ডায় হিসাব করে তার সঙ্গে সেই অনুপাতে আচরণ করার কথা ইসলাম বলে না। যদ্দূর সম্ভব মানুষকে ক্ষমা করা যদি তা অমার্জনীয় না হয়। অন্যের প্রতি সহনশীল আচরণ করা। সহানুভূতি প্রদর্শন করা। যে ব্যক্তি আমার ক্ষতি করেছে আমাকেও তার ক্ষতি করতে হবে এমনটি নয়। বরং আমি তার ক্ষতির বদলে উপকার করে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া যে না, এটাই উত্তম আচরণ।

নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।’ (বুখারি) তার মানে, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে সহনশীল আরচণ করে আল্লাহতায়ালাও তার সঙ্গে সেই ব্যবহার করেন। হাদিসে আরও এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘সদকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।’ (মুসলিম)।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code