

সাউথ এশিয়া ডেস্ক: ভারত জোড়ো যাত্রায় বেরিয়েছেন ইন্ডিয়া জোটের প্রধান মুখ
রাহুল গান্ধী। তবে দেশকে জুড়তে গিয়ে খালি হয়ে যাচ্ছে তার জোট। একদিকে ভারত
জোড়ো অন্যদিকে ইন্ডিয়া ছোড়ো—দুটিই চলছে সমানতালে। অন্তত তৃণমূল, আম আদমি
পার্টি (আপ)-এরপর এবার জেডি (ইউ) নেতা নীতীশ কুমারের পদক্ষেপ এমন ইঙ্গিতই
দিচ্ছে।
কংগ্রেসের নেতৃত্বে ২৮টি দল নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের পথ চলা শুরু হয়। তবে হারাধনের
১০ টি ছেলের মতো জোটের দলের সংখ্যা কমতে কমতে আর মাত্র ৫টি টিকে আছে।
লোকসভা ভোট যতই এগিয়ে আসছে এই সংখ্যাটিও টিকে থাকবে কি-না সে আশঙ্কা
দেখা দিয়েছে। হারাধনের এই ৫টি ছেলের মতো তামিলনাড়ুর ডিএমকে, মহারাষ্ট্রের
শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকুরের শিবির), কেরালার সিপিএম, বিহারের আরজেডি এবং
উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি জোটটিতে থাকবে কি-না, নাকি তারাও মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়, কেজরিওয়ালের মতো একলা চলো নীতি অনুসরণ করে কংগ্রেসের
বিরুদ্ধেই প্রার্থী দেবে তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিহারের আরজিডি এখনও ইন্ডিয়া জোটে টিকে থাকার
অন্যতম কারণ মুসলিম ভোট ব্যাংক। তারা মনে করছেন, জোট থেকে এই মুহূর্তে চলে
গেলে এই ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরতে পারে। তাই বিকল্প খোঁজার চেষ্টায় রয়েছেন।
দক্ষিণের দল ডিএমকের জাতীয় রাজনীতিতে তেমন কোনও প্রভাব নেই। তামিলনাড়ুতেই
তারা সীমাবদ্ধ। আর যোগীর দাপটে উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির অবস্থা এখন
নাজুক। তাদেরও ভরসা উত্তরপ্রদেশের মুসলিম ভোট ব্যাংক। কংগ্রেসের সঙ্গে ১১টি
আসন দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও দলটি ইন্ডিয়া জোটকে ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে
কতটা সাহায্য করতে পারবে এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বিরোধী জোটের মধ্যে
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং পাঞ্জাব ও দিল্লিতে ক্ষমতায় থাকা আপ যে সমর্থন দিতে
পারত ইন্ডিয়া জোটকে তা এখন আর নেই। শুধু মুসলিম ভোট আর দক্ষিণের কয়েকটা
আসন নিয়ে দিল্লির মসনদ দখলের পরিকল্পনাকে অলীক বলেই মনে করছেন
রাজনৈতিক মহল। কেননা, নীতীশের পক্ষত্যাগ দেশবাসীর কাছে এই বার্তাটি পরিষ্কার
করে দিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিরোধীহীন লড়াইয়ের মুখে বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে দেশজুড়ে মোদি বিরোধী নেতাদের নিয়ে সোনিয়া ও
রাহুলরা ইন্ডিয়া জোট নিয়ে যতটাই আশাবাদী ছিলেন, আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে
অনৈক্য, আসন বণ্টন নিয়ে মীমাংসা না হওয়ার মতো বিষয়গুলো ধীরে ধীরে জোটটিকে
শেষ করে দিতে থাকে।