

যুক্তরাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক দেশ। সেখানে মানবাধিকারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু একজন কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড, এরিক গার্নার কিংবা মিসাইল ব্রাউন যখন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারদের হাতে মারা যান, তখন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয় বৈকি। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ৭টি মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- সমতার অধিকার (সংবিধানের ১৪-১৮ ধারা), স্বাধীনতার অধিকার (সংবিধানের ১৯-২২ ধারা), ধর্মীয় অধিকার (ধারা ২৫-২৮), শিক্ষা ও সংস্কৃতির অধিকার (ধারা ২৯-৩০), সাংবিধানিক অধিকার (ধারা ৩২), সামাজিক নিরাপত্তা অর্থাৎ চাকরি ভদ্রভাবে বেঁচে থাকা, নিরাপত্তা, জীবনমানের উন্নতি এবং মাতৃত্বের অধিকার (ধারা ৪১-৪৩) ইত্যাদি। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই মৌলিক মানবাধিকারগুলো বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। ফলে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আর এমনি কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এবারও তেমনটি হয়েছে।
তবে এবারের অসন্তোষ ব্যাপক। এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে গেছে প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শহরে। এমনকি আটলান্টিকের অপর পাড়ে ইউরোপেও এই বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে একজন দাস ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ এডওয়ার্ড কোলস্টোনের স্ট্যাচুও ভেঙে ফেলেছে। এই কোলস্টোন ১৭ শতকে কৃষ্ণাঙ্গ দাস ব্যবসার সঙ্গে (৮০ হাজার আফ্রিকান নাগরিককে তিনি আমেরিকায় বিক্রি করেছিলেন) জড়িত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভকারীরা শ্বেতাঙ্গ নিয়ন্ত্রিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান (আমাজন, মেসি) জ্বালিয়ে দিয়েছে অথবা লুট করেছে। শ্বেতাঙ্গদের প্রতি ক্ষোভটা কেন, এসব ঘটনা থেকেই তা বোঝা যায়। এটাই হচ্ছে বিক্ষোভের মূল কারণ। বলতে দ্বিধা নেই যে, চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যেভাবে ‘হোয়াইট সুপ্রিমেসির ধারণা প্রমোট করছেন, তাতে করে এক দিকে কৃষ্ণাঙ্গরা, অন্য দিকে এশীয় ও হিস্পানিক বংশোদ্ভূতরা এক ধরনের আতঙ্কে ভুগছেন। তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তাদের যে অধিকার দিয়েছে, তা ট্রাম্প খর্ব করছেন বা খর্ব করতে চাচ্ছেন। বিক্ষোভের পেছনে এটাই মূল কারণ।