যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় বন্দি প্রবাসীদের বাড়ির আঙ্গিনা,পার্কিং লট ও হলরুমে ঈদ জামাত

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট, ইউএস : করোনায় অবরুদ্ধ প্রবাসীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নিউইয়র্কসহ সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে ঈদুল ফিতর উদযাপন করলেন।
বাড়ির প্রাঙ্গন অথবা গাড়ীর গ্যারেজ ছাড়াও হলরুমে অথবা পার্কিং লটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বহু এলাকায়। বড় বড় মসজিদের পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল খুতবা প্রদান করা হয় বাসায় ঈদ জামাতে অংশগ্রহণকারিদের জন্যে। ফেসবুকেও নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদী সেন্টার থেকে। আবার মিশিগানের কয়েকটি স্থানে খোলা মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবার সংবাদ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ ১০ জনের সমাগম করার অনুমতি থাকলেও অধিকাংশ স্থানেই সেটি পালিত হয়নি। তবে সকলেই চেষ্টা করেছেন ‘সামাজিক দূরত্ব’ মেনে চলতে। বাড়ির সুপরিসর আঙ্গিনায় যারা ঈদ নামাজ আদায় করেছেন তারা ছিলেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টির বাইরে। কারণ অনেকেই স্বাস্থ্যনীতি তেমনভাবে পালনে সক্ষম হননি। আবার কেউ কেউ পুরো স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদ-আমেজে আত্মীয়-স্বজনকে আপ্যায়িত করেছেন।

২৪ মে রোববার চমৎকার আবহাওয়া থাকলেও ঈদের কোন আমেজ ছিল না। কাউকে নতুন পোশাকেও দেখা যায়নি ভার্চুয়াল ঈদ জামাতে। ঈদ উপলক্ষে কাউকে কোলাকুলির সুযোগও ছিল না। করমর্দনের চেষ্টাও করেননি কেউ। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে তিন হাজারের অধিক মসজিদ রয়েছে। করোনা না থাকলে সবগুলোতেই একাধিক ঈদ জামাত হতো। আর নিউইয়র্ক অঞ্চলে সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত আয়োজনকারি ‘জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার’র উদ্যোগে ভার্চুয়াল খুৎবা প্রদান করা হয়।

নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ওয়াশিংটন ডিসি, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, ইলিনয়, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, আরিজোনা, মিনেসোটা, ওহাইয়ো, ওয়াশিংটন, ওকলাহোমা প্রভৃতি স্থান থেকেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল ফিতর উদযাপনের সংবাদ পাওয়া গেছে।

আশিক রহমান মিশিগান থেকে জানান, সকাল থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি (গ্লাভস ও মাস্ক) পরিধান করে এবং জায়নামাজ ও টুপি নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে মসজিদে উপস্থিত হতে থাকেন। ডেট্রয়েট, হ্যামট্রামক ও ওয়ারেন সিটির বাঙালি মুসলমানদের পরিচালিত মসজিদগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ঈদ জামাত অনুষ্টিত হয়েছে। ডেট্রয়েট সিটির বায়তুল মোকারম মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্টিত হয়। এছাড়া আলনুর মসজিদ, আল ইসলাহ মসজিদ, বায়তুল মামুর মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার অব হ্যামট্রমিকে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এনআরবি নিউজ

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার

Manual2 Ad Code

নিউইয়র্কে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে মসজিদের ভেতরে মাত্র ১১ জন মুসল্লি নিয়ে একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন ইমাম শামসে আলী। নামাজের আগে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার ডেরমট এফ শিয়া ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা ভিডিওর মাধ্যমে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

Manual3 Ad Code

জ্যামাইকা দারুল উলুম মসজিদে চারটি ছোট ছোট ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রঙ্কসের পেলাম পার্কের বাস্কেট বল মাঠ

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রঙ্কসের পেলাম পার্কের বাস্কেট বল মাঠে। এখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। সকাল সাড়ে সাতটায় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাতটার আগেই পুরো মাঠ ভর্তি হয়ে যায়। প্রত্যকেই নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে কাতারে বসেন। পাঁচ শতাধিক মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন।

ব্রঙ্কসের খলিল পার্টি সেন্টার

ব্রঙ্কসের খলিল পার্টি সেন্টারে সোস্যাল ডিসটান্স বজায় রেখে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে ইমামতি করেন পার্কচেস্টার ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক। নামাজ শেষে করোনাভাইরাসে যারা প্রাণ ত্যাগ করেছে, তাদের আত্মার মাগফিরাত এবং যারা অসুস্থ তাদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের খলিল বিরিয়ানি হাউসের পক্ষ থেকে আপ্যায়ন করা হয়।

এস্টোরিয়ার গাউছিয়া জামে মসজিদ

এস্টোরিয়ার গাউছিয়া জামে মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ইমামতি করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা জালাল সিদ্দিকী। যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘এস্টোরিয়া এলাকায় বসবাসরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি এখানে নামাজ আদায় করেছেন। জামাতে উপস্থিত সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেছেন।’

লং আইল্যান্ডের লেক রনকনকোমা পার্ক

লং আইল্যান্ডের লেক রনকনকোমা পার্কে বেলা ১১টায় ঈদের একমাত্র জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাত শেষে করোনায় মৃত্যু হওয়া সবার জন্য দোয়া করা হয়।

জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদী সেন্টার

জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদী সেন্টার থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইমাম কাজী কাইয়্যুম রমজানে ফেসবুক লাইভে ঈদের নামাজ পড়িয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ফেসবুক লাইভে ঈদের জামাত আদায় করেছেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী। ইমাম কাজী কাইয়্যুম রমজানে ফেসবুক লাইভে তারাবিহও পড়িয়েছেন।

নিউজার্সির প্যাটারসন

Manual4 Ad Code

প্যাটারসন থেকে বিএনপির নেতা সৈয়দ জুবায়ের আলী জানিয়েছেন, তাঁরা স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে পাশের ছোট একটি পার্কে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। আশপাশের বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজনও ছোট ছোট গ্রুপ করে বাড়ির আঙিনা বা পার্কে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

নিউজার্সির বাউলা সিটিতে প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর উদ্যোগে সিটির আইন মেনে ডেলাওয়ার নদীর পাশে একটি পার্কে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

আটলান্টিক সিটিতে নিরানন্দ পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন

আটলান্টিক সিটি থেকে সুব্রত চৌধুরী- আটলান্টিক সিটিতে নিরানন্দ পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এ বছর ব্যতিক্রমী এক পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছেন আটলান্টিক সিটির মুসলমানরা। এমন বিবর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে হবে তা কেউ স্বপ্নেও ভাবেননি। তাঁরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরের মধ্যে বা ঘরের পেছনে খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করেন। এবারের ঈদে সবার কামনা ছিল সবাই যেন করোনা থেকে মুক্ত থাকে, যারা করোনায় আক্রানত হয়েছেন তারা যেন তাড়াতাড়ি সুস্হ হন, পৃথিবী থেকে যেন সহসাই ‘করোনা’ দূর হয়ে যায়। ঈদের নামাজ শেষে প্রবাসীরা দেশে ও প্রবাসে অবস্হানরত আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে টেলিফোন, স্কাইপ, জুম, মেসেনজারে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এবারের ঈদ ছিল সবার জন্য কষ্টের, দু:খের ও বেদনার। অনেকের স্বজন করোনায় আক্রানত হয়েছেন বা মারা গেছেন। তাই অনেকেই দু:খ ভারাক্রানত মন নিয়েই ঈদ উদযাপন করেন।

Manual6 Ad Code

মোঃ মনিরুজ্জামান আটলান্টিক সিটিত থেকে জানান, ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নিউজার্সি ষ্টেটের আটলান্টিক সিটিতে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ২৪ মে রবিবার আটলান্টিক সিটির মসজিদে মোহাম্মদী এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সাউথজার্সী তার নিজস্ব ভবন ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে’ নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে প্রবাসী বাংলাদেশি আমেরিকান সহ অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায় সি,ডি,সি এবং ষ্টেটস্ আইন মেনে ঈদের জামাতে অংশ নেয়।

কোভিড ১৯ এর কারনে সবকিছু লকডাউন থাকায় মসজিদ আলহেরা এবং মসজিদ আত্ তাকওয়া এ বছর ঈদের জামাত বন্দ রেখেছে। বেশীর ভাগ লোকই বৈশ্বিক এ মহমারির সময় স্বাস্থ্য ঝু এড়িয়ে চলার কারনে নিজ নিজ বাড়ীতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের জামাত আদায় করেছে।আবার কিছু লোক দু’একজন বন্ধু অথবা প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে খন্ড খন্ড ভাবে ঈদের জামাত আদায় করেছে মর্মে জানা গেছে। সবখানেই দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code