যুদ্ধের বাণিজ্য: কার পকেট কাটছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত প্রায়ই দেশপ্রেমের জোয়ারে ভেসে যায়। যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলেই উভয় দেশের জনগণ তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। এমনকি কিছু সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার রীতিমতো উসকানিমূলক প্রচার প্রচারণা চালায়।

ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান চিত্রটি থেকে তা স্পষ্ট। পাকিস্তানের জনগণ তো তাদের বিমানবাহিনীর জন্য যারপরনাই গর্ববোধ করছে। এমনকি যারা আগে পাকিস্তানের সামরিক ব্যয়ের সমালোচনা করতেন, তাঁরাও এখন বৈরী প্রতিবেশী মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলছেন।

কিন্তু, শেষ পর্যন্ত, এই যুদ্ধের ফল হিসেবে কাদের ঘর যায়? কারা লাভবান হয়? যুদ্ধে ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের, জীবন ও জীবিকা নিয়ে শঙ্কিত থাকে, স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর হয়। দুটি দেশই সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে, অথচ জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণেই তারা একপ্রকার ব্যর্থ।

Manual7 Ad Code

সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারত সামরিক খাতে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যেখানে একই সময়ে পাকিস্তানের ব্যয় ছিল ৩৪৮ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল ব্যবধান সত্ত্বেও, পাকিস্তান সীমিত সম্পদ দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে বেশ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

যেকোনো যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী হলো অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো। সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের প্রচুর অস্ত্র ক্ষয় হয়েছে। অস্ত্রাগার ভরতে তারা আবার নতুন করে ব্যয় করবে, এটা নিশ্চিত।

সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ২ দশমিক ৭২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সাল থেকে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এটি স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি। এর পুরোটাই জনগণের করের টাকা।

Manual7 Ad Code

এসআইপিআরআই-এর মতে, এই ব্যয় বৃদ্ধি টানা দশম বছরের মতো ঘটল। সরকারগুলো প্রায়শই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতকে উপেক্ষা করে প্রতিরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, অপুষ্টিতে ভোগা দরিদ্র ও শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে।

২০২৩ সালে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানি ৬৩২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক পরিষেবা বিক্রি করেছে, যা ২০২২ সালের চেয়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

Manual6 Ad Code

এসআইপিআরআই-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ ১০০ অস্ত্র উৎপাদকের রাজস্ব এখনো তাদের কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছেনি। অনেক কোম্পানি কর্মী নিয়োগ করছে। এতে বোঝা যায়, ভবিষ্যতের বিক্রি সম্পর্কে তারা কতটা আশাবাদী!

ঘৃণার চর্চা থেকেই জন্ম নেয় সংঘাত। আর সংঘাত কেবল বিত্তবানদের আরও সম্পদশালী করে তোলে। আর যারা যুদ্ধ করে, তাদের জীবনে নেমে আসে সীমাহীন দুর্ভোগ। তাই, প্রতিপক্ষের যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং যুদ্ধংদেহী কথাবার্তা সত্ত্বেও, একমাত্র যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ হলো উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং শান্তির পথে হাঁটা।

ডেস্ক: এন

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code