

ধর্ম: হিজরি নতুন বছর শুরু হয়ে গেছে। প্রতিটি মুসলমানের জন্য হিজরি সন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, হিজরি সনের সঙ্গে হজ, জাকাত ও রোজাসহ বহু বিধান জড়িত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘লোকেরা আপনার কাছে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলুন, এটা মানুষ এবং হজের জন্য সময়-নির্দেশক। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৯)
হিজরি সন শুরু হওয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
এক. নতুন বছরের শুরুতে শুভেচ্ছা জানানো
নতুন বছরে শুভেচ্ছা জানানো মুসলিমরীতি। কারণ, একে অপরের শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়া ইসলামের নির্দেশ। ইসলামে কোনো ধরনের অশুভ চিন্তা ও কুলক্ষণের চর্চা নেই; বরং শুভ-কল্যাণ ও মঙ্গলের ধারণা রয়েছে। এক হাদিসে আনাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, “ইসলামে সংক্রামক ব্যাধি আর কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই। তবে ‘ফাল’ (শুভ লক্ষণ) আমাকে আনন্দিত করে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ফাল’ কী? তিনি বলেন, ‘উত্তম বাক্য’। ” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৭৭৬)
দুই. পবিত্র কোরআনে হিজরি বর্ষের কথা
পবিত্র কোরআনে হিজরি বর্ষের কথা উল্লেখ আছে। হিজরি সন মূলত চান্দ্র বর্ষ। কেবল হিজরি বর্ষ পৃথিবীতে বছর গণনায় চাঁদনির্ভর একমাত্র পঞ্জিকা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে নিশ্চয়ই মাসগুলোর সংখ্যা হলো ১২। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। ’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৬)
তিন. যেভাবে হিজরি সনের প্রচলন হয়
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর সময়কাল। তখন বসরার গভর্নর ছিলেন আবু মুসা আশআরি (রা.)। তিনি একবার খলিফার কাছে পত্রে লিখে বলেন, ‘হে আমিরুল মুমিনিন! আমাদের কাছে বহু পত্র আসে। পত্রগুলোতে তারিখ লেখা থাকে শাবান। কিন্তু তা কি চলতি বছরের, নাকি আগের কোনো বছরের— আমরা বুঝতে পারি না। ’ তার চিঠি পেয়ে খলিফা উমর (রা.) দ্রুত জটিলতা দূরের উদ্যোগ নেন। (ইবনুল আসির, আল-কামিল ফিত-তারিখ : ১/৮)