রাত পোহালেই সম্মেলন: মনে শঙ্কা, তবুও বুক ভরা আশা নিয়ে অপেক্ষায় তৃণমূল

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual1 Ad Code

দীর্ঘ ৮ বছরের বেশী সময় ধরে একই নেতৃত্বে টিকে আছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। সেই ২০০৫ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছিল সিলেট আওয়ামী লীগে। এরপর ২০১১ সালে সম্মেলন ছাড়াই গঠিত হয় কমিটি। তিন বছর মেয়াদি সে কমিটি পার করে ৮ বছর।

 

প্রায় ১৪ বছর পর সম্মেলন হওয়ায় বুক ভরা আশা নিয়ে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা করছে তৃণমূল। নতুন নেতৃত্ব আসবে, নতুন করে সিলেট আওয়ামী লীগ সাজবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন অনেকেই। তবে- বুক ভরা আশা থাকলেও শঙ্কা কাটছেনা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।

 

অনেকেই ধারণা করছেন- সম্মেলন হবে ঠিক কিন্তু নতুন নেতৃত্ব আসবেনা। পুরনোকেই নতুন করে সাজানো হবে। যেমনটা হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের অধিনস্থ উপজেলা কমিটিগুলোতে। জেলার প্রায় সবকটি উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে কিন্তু নেতৃত্বের বদল হয়নি। লাইসেন্স নবায়নের মতো বারবার পুরনোদেরই নতুন করে নেতৃত্বের আসনে বসানো হয়েছে। সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও সমঝোতায় মাধ্যমে গঠিত হয় কমিটি। সমঝোতা হলে নতুন নেতৃত্ব আসেনা, সিনিয়রদের সম্মান করে নবীনরা সুযোগ দিয়ে দেন। এভাবে চলতে থাকলে একসময় নেতৃত্বের সংকটে পড়বে দল। পাশাপাশি ঝরে যাবে সাংগঠনিক নেতৃত্বে আসার মতো বহু যোগ্য নেতা।

 

তবে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে কতটুকু পরিবর্তন হবে তা এখনও বুঝা যাচ্ছে না। বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিকল্প এখনও মহানগর আওয়ামী লীগের গড়ে উঠেনি। আসাদ উদ্দিন আহমদও রাজনীতির মাঠে পুরনো খেলোয়াড়। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে অভিভাবক সংগঠন আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। একজন ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে সর্বমহলে তিনি পরিচিত। খোদ নেত্রীর কাছেও তার সুনাম রয়েছে।

 

Manual5 Ad Code

তাছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে- যে কয়েকজন প্রার্থীতা ঘোষনা করছেন তাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক কর্মদক্ষতা সব দিক দিয়ে এগিয়ে বর্তমান সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি দীর্ঘদিন থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

কামরান ছাড়াও সভাপতি পদে রয়েছেন- বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সহ-সভাপতি এডভোকেট মফুর আলী, এডভোকেট রাজ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক এবং যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ার।

 

তবে নেতাকর্মীদের ধারণা- বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে, আসাদের কাঁধেই যেতে পারে মহানগর সভাপতির দায়িত্ব।

 

Manual3 Ad Code

মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও বিজিত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাক শফিউল আলম নাদেল ও এটিএম হাসান জেবুল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র, বন ও পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী এবং সদস্য কাউন্সিলার সালেহ আহমদ সেলিম আলোচনায় আছেন। তবে নেতাকর্মীদের মধ্যে অধ্যাপক জাকির, বিজিত চৌধুরী, নাদেল ও আজাদের নামই আলোচিত হচ্ছে বেশি।

Manual2 Ad Code

 

এদিকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নিয়েও শঙ্কার কোন শেষ নেই। সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান এডভোকেট লুৎফুর রহমান। এ পদে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মন্ত্রী ইমরান আহমদ সভাপতি পদে প্রার্থীতা হওয়ার ঘোষনা দেওয়ার পর পাল্টে যায় হিসেব নিকেশ। গ্র“প রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ইমরান আহমদ। নেত্রী হয়তো মন্ত্রী ইমরানকেই সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে লুৎফুর রহমানকে ভারমুক্ত করবেন।

 

এছাড়া ত্যাগী ও পরিশ্রমী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত শফিক চৌধুরীও এ পদের দাবিদার। লুৎফুর রহমান বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ার কারনে দলের পুরো কাজ করেন শফিক চৌধুরী। দলের জন্য তিনি বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগ এখন শফিক চৌধুরীর কাঁধে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। জেলাজুড়ে কর্মসূচি পালন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও সংগঠিত রাখা, বিপদে-আপদে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো সবক্ষেত্রেই অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন শফিক। এছাড়া দলের যে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবার অগ্রভাগে থাকেন তিনি। এদিক দিয়ে শফিকুর রহমানও সভাপতির যোগ্য দাবিদার।

 

এছাড়াও সভাপতি পদে রয়েছেন- সহসভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ এবং সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ।

 

Manual1 Ad Code

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শফিক চৌধুরী সভাপতি পদে প্রমোশন পেলে তার স্থলে নতুন মুখ আসতে পারে। এক্ষেত্রে বর্তমান সহসভাপতি এডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন ও সুজাত আলী রফিক, উপ-দফতর সম্পাদক জগলু চৌধুরী নাম রয়েছে আলোচনায়।

 

সব মিলিয়ে জটিল সমীকরণে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। তবে- সমীকরণ যাই হোক

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code