

যুক্তরাষ্ট্র ডেস্ক: বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী সরকারে পরিণত হয়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকারের পদত্যাগ করানো ছাড়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করা যাবে না। আর এই সরকারের পদত্যাগে বাধ্য করতে দেশে এবং প্রবাসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। গত ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র জাসাস আয়োজিত মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য হেলাল খান এসব কথা বলেন।
প্রচণ্ড বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে গত ১২ অক্টোবর অপরাহ্নে ‘ইমডেমনিটি’ নাটকটি অবিলম্বে নিষিদ্ধ এবং এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় প্রথমে মানববন্ধন করেন যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের নেতাকর্মীরা। এরপর প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় ‘ইটজি চায়নিজ রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে। যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সভাপতি ও জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আলহাজ আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এ প্রতিবাদ সমাবেশ পরিচালনা করেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির মানবাধিকার সম্পাদক সোহরাব হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন সবুজ, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম আকন্দ, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেলাল খান আরো বলেন, মান্নান হীরার রচনা ও পরিচালনায় ইনডেমনিটি নাটকের মাধ্যমে সভ্য সংস্কৃতি বিবর্জিত নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে। নাটকটি মূলত ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোস্তাক আহমেদের জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নিয়ে। অথচ সেই সত্য বিকৃত করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নাম যুক্ত করা হয়েছে এবং তা উপস্থাপন করা হয়েছে। হেলাল খান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পতনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিপ্রায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলায় দণ্ড দেয়া হয়েছে। গভীর ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে মেরে ফেলার। তারা বলেন, সরকার আসলে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান ভয় পায়। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে এবং তারেক রহমানকে বিদেশে রাখা হয়েছে। তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।
সমাবেশে আরো ছিলেনÑ জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, ওয়েস আহমেদ, শাহাদৎ হোসেন সবুজ, সিদ্দিক হুসেন রুবেল, আফরোজা বেগম রোজি, ইরফান আহমেদ কাউসার, দারাদ আহমেদ, আব্দুল হাকিম, সুলতান খান, সুমন রহমান, সোনিয়া আকতার প্রমুখ। সমাপনী বক্তব্যে জাসাস সভাপতি আবু তাহের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও বিপুলভাবে সাড়া দেয়ার জন্য।