

নিউজ ডেস্কঃ স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে চলছে কপ-২৬ শীর্ষ জলবায়ু সম্মেলন। সম্মেলনের স্বার্থে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বড় বড় সড়কগুলো। ফলে শহরবাসীর সঙ্গে সঙ্গে বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন আগন্তুকরাও। এদিকে শহরের আবাসন সংকট চরম রূপ নিয়েছে।
হোটেল ভাড়া এখন আকাশচুম্বী। বেড়েছে বাড়ি ভাড়াও। এক সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন যে হোটেল কক্ষের ভাড়া ৪২ পাউন্ড ছিল তার ভাড়া এখন হাঁকানো হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ পাউন্ড। ফ্ল্যাট ভাড়া আগের চেয়ে ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে চাচ্ছেন বাড়িওয়ালারা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে জনবহুল ও যুক্তরাজ্যের চতুর্থ জনবহুল নগরী গ্লাসগো। জনসংখ্যায় ইউরোপের ২৭তম নগরী হলেও স্থানীয় সিটি কাউন্সিলের তথ্যমতে, শহরবাসী প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার জন। ক্লাইড নদী তীরবর্তী এই শহরের দিকেই এখন মনোযোগ বিশ্ববাসীর, একবিংশ শতকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তথা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকট জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে এখানেই শুরু হয়েছে কপ-২৬ সম্মেলন। গ্লাসগোর বিখ্যাত সম্মেলন কেন্দ্র স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসে (এসইসি) স্থানীয় সময় রোববার (বাংলাদেশ সময় সোমবার) শুরু হয় সম্মেলনের কর্মসূচি। চলবে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত।
সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের সরকারপ্রধানরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন থেকে শুরু করে অ্যান্ডোরার মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীসহ প্রায় ১২০টি দেশের ৩০ হাজার প্রতিনিধি এখন গ্লাসগোয় অবস্থান করছেন। ঐতিহাসিক এই মিলনমেলাকে নিরাপদ রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিবিসির রিপোর্ট মতে, প্রধান সড়কগুলো মূলত সম্মেলনের এক সপ্তাহ আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সম্মেলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব রাস্তা খুলে দেওয়া হবে না। আগামী কয়েকটা দিন অন্যান্য দিনগুলো থেকে শহরের ভিড় বেশি থাকবে। ফলে চলাচলের ক্ষেত্রে শহরবাসীকে আরও বেশি ঝক্কি পোহাতে হবে। আগামী শনিবার পরিস্থিতির আরও এক ধাপ অবনতি হতে পারে। ওই দিন গ্লোবাল ডে ফর ক্লাইমেট জাস্টিস উপলক্ষ্যে শহরে কয়েক লাখ বিক্ষোভকারীর সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী কয়েকদিনের জন্য সম্মেলন এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য শহরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় পরিবহণ সংস্থা ‘ট্রান্সপোর্ট স্কটল্যান্ড’। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গ্লাসগো লাইভ জানিয়েছে, তুলনামূলক অনেক কম জনসংখ্যার হলেও গ্লাসগোর পক্ষে বিভিন্ন দেশের ৩০ হাজার প্রতিনিধির জন্য আবাসন ব্যবস্থা করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্মেলনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত জাতিসংঘ কর্মীদেরও থাকার বন্দোবস্ত করতে হচ্ছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বনেতারা কোথায় থাকবেন তা জানানো হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ-তাদের কেউ কেউ গ্লাসগো শহর থেকে বেশ দূরে অবস্থিত সেন্ট অ্যান্ড্র–, এডিনবরা ও পার্থশায়ারের মতো শহরে থাকবেন। প্রতিনিধি ছাড়াও পুরো বিশ্ব থেকে অনেক গণমাধ্যম কর্মী ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মী গ্লাসগো এসেছেন, তাদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নগর কর্তৃপক্ষের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে শহরটির সব কয়টি হোটেল বা পান্থশালা জনাকীর্ণ, বেশ চড়া প্রিমিয়াম ভাড়া নিচ্ছে তারা।