

ডেস্ক রিপোর্ট:কথায় আছে, “লন্ডন এখন সিলেটিদের দখলে”—প্রবাদটি যে কেবল কথার কথা নয়, বরং এক চরম বাস্তব, তা আবারও প্রমাণিত হলো যুক্তরাজ্যের সদ্যসমাপ্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি কমিউনিটি তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে এবারের নির্বাচনে। পূর্ব লন্ডনের ৪টি প্রধান বরোতে একযোগে রেকর্ডসংখ্যক ৮০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন।
একই সঙ্গে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বরোতে নির্বাহী মেয়র পদে জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন দুই বাংলাদেশি লড়াকু সন্তান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের এই অভাবনীয় উত্থান লন্ডনের স্থানীয় রাজনীতিতে সিলেটিদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও নীতিনির্ধারণী অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
লন্ডনের ‘মিনি সিলেট’ খ্যাত টাওয়ার হ্যামলেটসে এবার বইছে বিজয়ের উৎসব। সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এসপায়ার পার্টি এই বরোতে এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে।
রেকর্ড জয়: বরোটির ৪৫টি কাউন্সিলর আসনের মধ্যে রেকর্ড ৩৩টিতেই জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা, যাদের সিংহভাগেরই শিকড় সিলেটে।
চতুর্থবারের মতো মেয়র লুৎফুর: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চতুর্থবারের মতো টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন লুৎফুর রহমান।
লন্ডনের নিউহাম বরোতেও রচিত হয়েছে এক রাজকীয় ইতিহাস। যুক্তরাজ্যের মূলধারার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল ‘লেবার পার্টি’ থেকে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে নিউহামের নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ফরহাদ হোসেন।
ফরহাদ হোসেনের এই জয় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মাইলফলক।
ফরহাদ হোসেনের এই ঐতিহাসিক জয়ের পাশাপাশি নিউহাম বরোতে লেবার পার্টি ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে আরও ১৯ জন বাংলাদেশি প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
লন্ডনের অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ বরো রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামেও বাংলাদেশিরা নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন বুক ফুলিয়ে।
এখানে আরও ১০ জন বাংলাদেশি কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী হয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন।
এই ঐতিহাসিক বিজয় প্রমাণ করে যে, সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারার অববাহিকা থেকে টেমসের তীরে পাড়ি জমানো বাংলাদেশিরা আজ আর কেবল প্রবাসী নন; তারা এখন ব্রিটিশ রাজত্বের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডনের বুকে একসঙ্গে ২ জন নির্বাহী মেয়র ও ৮০ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে—লন্ডনের রাজনীতিতে এখন সিলেটিদের প্রভাবই শেষ কথা!