

সম্পাদকীয়: প্রতিবছর হজ মৌসুমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে উড়োজাহাজ লিজ সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে ওঠে। লিজ বাণিজ্যের জন্য হজের আগে অপতৎপরতা চালিয়ে নানাভাবে উড়োজাহাজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। শেষ মুহূর্তে দরপত্র ছাড়াই পছন্দের কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া হয়। এ কাজে তৎপর বিমানের প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট।
জানা গেছে, এবারও হজের জন্য দুটি উড়োজাহাজ লিজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এর পেছনেও কাজ করছে দুর্নীতি। এ বছর হজযাত্রী কম। বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজ দিয়েই হজযাত্রী বহন করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লিজের যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য নিজস্ব কয়েকটি উড়োজাহাজ নষ্ট করে রাখা হয়েছে।
নতুন উড়োজাহাজগুলোর ব্লক আওয়ার কম দেখিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। গত ১২ এপ্রিল বিমানের নিজস্ব হ্যাঙ্গারে দুটি বিমানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পেছনেও লিজ বাণিজ্য কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিমানের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির কথা সর্বজনবিদিত। আমাদের মনে আছে, এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে খোদ প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। বছর তিনেক আগে এ রাষ্ট্রীয় সংস্থার সব শাখায় বিদ্যমান সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তখন এর সুফলও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বিমানের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে আবারও এদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা।