শায়েস্তাগঞ্জে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে ওই এলাকার পরিবেশ

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code
.
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর এলাকায় অবস্থিত সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে ওই এলাকার পরিবেশ। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনসাধারণ। শুধু তাই নয়, দুর্গন্ধের কারণে কোম্পানির পার্শ্ববর্তী বাসা-বাড়ির অনেক ভাড়াটিয়াই এখন বাসা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও ওই এলাকার ছোট বড় অনেকেরই দুর্গন্ধের কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ-বালাই দেখা দিচ্ছে।
জানা যায়, বেশ কয়েক বছর পূর্বে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় গড়ে উঠে সিপি বাংলাদেশ নামে একটি কোম্পানি। ওই কোম্পানির মূলত কাজ ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো। পরে বাচ্চাগুলো বিক্রি করা হয়। কোম্পানির বিষাক্ত রাসায়নিক ও পচা ডিমসহ তাদের অবিশিষ্ট বর্জ্য কিছুদিন পর পর অপসারণ করা হতো। সম্প্রতি কোম্পানিটি তাদের বর্জ্য অপসারণ না করে নিজেদের সীমানা প্রাচীরের ভেতরেই রেখে দিচ্ছে। আবার কখনো কখনো রাস্তায় রাস্তায় ফেলে দিচ্ছে ঢালাওভাবে। আর দিন দিন বিষাক্ত ওইসব উচ্ছিষ্ট কোম্পানির আশপাশসহ অলিপুর, রাধাপুর, বাহরনগর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। যে কারণে দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে উঠছে স্থানীয় জনসাধারণ।
সিপি কোম্পানির এই দায়িত্বহিনতা নিয়ে বিগত ২০১৫ সালে হবিগঞ্জের কয়েকটি গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে এ বিষয়ে মহসিন পাশা নামে একজন সিপি কোম্পানির বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় অভিযোগও করেছিলেন। এ ঘটনার পর বেশ কিছুদিন তারা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করে।
সম্প্রতি অলিপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোশাহিদ মিয়া, আলাই মিয়া, ধুলাই মিয়া, ফুরকান মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, পূর্বে কোম্পানিটি কিছুদিন পরপর তাদের বর্জ্য অপসারণ করলেও সম্প্রতি তারা তা করছে না। যে কারণে কোম্পানির ভেতর থেকে বাহিরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে অত্র এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা এ থেকে বাঁচার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ এর সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, যেকোন শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের অভ্যন্তরে এমন কিছু কার্যক্রম চালায় যাচ্ছে যাতে করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। সিপি কোম্পানির বিষাক্ত বর্জ্যর বিষয়টি আমি জেনেছি, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ। দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণ ও অপরিকল্পিত শিল্পায়নই এর জন্য দায়ী।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শিল্পায়নের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু অপরিকল্পিত যেকোন শিল্পায়ন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই আমি এ বিষয়ে নজর দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপি কোম্পানির ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানান, ‘আমাদের কোম্পানির কাজ হল ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানো। আমাদের কোম্পানির তেমন কোন বর্জ্য নেই। তাছাড়া যেটুকু আছে সেটুকু আমরা কোম্পানির ভেতরেই মাটির নিচে পুতে ফেলি। এছাড়াও এ বিষয়ে আমাদেরকে স্থানীয় কোন লোক অভিযোগ দেয়নি।’
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন জানান, ‘ভুক্তভোগী এলাকাবাসী যদি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে আমরা সরজমিনে তদন্ত করে কোম্পানির বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code