

চাটমোহর (পাবনা) :
কাল বৈশাখী ঝড়, শিলা বৃষ্টি ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কার মধ্য দিয়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলার কৃষকেরা আধাপাকা বোরো ধান কাটছে। ফলন বিপর্যয়ের আশংকা থাকলেও ইতোমধ্যে অপেক্ষাকৃত নিচু জমির আধাপাকা ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকেরা। উপজেলার বোয়াইলমারী, খলিশাগাড়িসহ আশে-পাশে বিলে ধান কাটছেন কৃষকরা।
এদিকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অধিক টাকা মজুরী দিয়েও সময়মতো মিলছে না কৃষি শ্রমিক। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও শ্রমিক সংকট চলতে থাকলে কৃষকের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। স্থানীয় ও উফশী ছাড়াও আবাদ হয়েছে হাইব্রিড ধানের।
উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ৯ হাজার ৬’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ৯ হাজার ৮’শ ৬৫ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ২’শ ১৫ হেক্টর জমিতে কম ধান চাষ হয়েছে। চাটমোহরে সাধারণত ব্রীধান-২৮, ব্রীধান-২৯, মিনিকেট, জনক রাজ, এস এল-৮সহ স্থানীয় জাতের ষাইটা, ও কালো বোরো ধানের চাষ হয়। এর মধ্যে ষাইটা, কালো বোরো ও মিনিকেট ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধানের ফলনও ভাল হচ্ছে।
এবার হাইব্রিড ধান আবাদ করে কৃষক বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন। ‘তেজ’ ও ‘সুপার রাইস’ নামের দুটি হাইব্রিড ধান পরিকল্পিতভাবে চাষ করার কারণে একর প্রতি ফলন হয়েছে ১০৫ মণ। স্থানীয় ও উফশী জাতের ফলন হয়েছে একর প্রতি ৭০ মণ। উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়েছে।
উপজেলার ধানকুনিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানায়, ৬ বিঘা নিচু জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। বৃষ্টিতে জমির মধ্যে প্রায় এক ফুট পানি জমে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ধান ডুবে যেতে পারে এ আশংকায় আধা পাকা ধান কেটে ফেলছেন তিনি। একই গ্রামের কৃষক লিটন মন্ডল জানায়, চলতি মৌসুমে দশ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। এবছর চারার দাম বেশি থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় চার হাজার টাকার চারা লেগেছে। জমি চাষ বাবদ খরচ হয়েছে এক হাজার টাকা। রোপনে শ্রমিক খরচ হয়েছে ১ হাজার ৭শ টাকা। টিএসপি পটাশ ইউরিয়া সার বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪’শ টাকা। আগাছা পরিষ্কারে প্রায় ১ হাজার ৫শ টাকা খরচ হয়েছে। বালাই নাশক বাবদ প্রায় ৩শ টাকা এবং ধান কাটতে বিঘা প্রতি শ্রমিককে দিতে হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ১শ টাকা। বাড়িতে ধান নিয়ে যেতে ৬’শ টাকার মত পরিবহন খরচ হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিঘা প্রতি খরচ পরছে প্রায় ১৩ হাজার ৬শ টাকার মত। মাড়াই বাবদ মন প্রতি ২ কেজি করে ধান দিতে হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২০ মন হারে ধান হচ্ছে। জমিতে পানি প্রয়োগ বাবদ ইঞ্জিন মালিককে চার ভাগের এক ভাগ ধান দিয়ে আসতে হচ্ছে জমি থেকেই। এক বিঘা জমি আবাদ করে কৃষক ১৫ মনের মত ধান পাচ্ছেন যার বর্তমান বাজার মূল্য ১৩ হাজার ৫’শ টাকার মতো।
প্রতি বিঘা জমিতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার খড় পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বোরো আবাদ করে কৃষকের লাভ হচ্ছে প্রায় আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএ মাসুম বিল্লাহ জানায়, প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে কৃষক ভালোভাবেই ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। বাজার দর বেশি হলে কৃষক লাভবান হবেন।