

সংগ্রাম দত্ত
বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ শ্রীমঙ্গল উপজেলা আবারও এক করুণ ঘটনার সাক্ষী হলো। বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর (Slow Loris) বিদ্যুতের তারে আটকে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গলের নোয়াগাঁওয়ের সাইটোলা খামার প্রজেক্ট–২ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টি তাদের অবহিত করে। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান, লজ্জাবতী বানরটি বৈদ্যুতিক তারে ঝুলে আছে। পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়। তবে নিচে নামানোর পর দেখা যায়, বানরটি ইতোমধ্যেই মারা গেছে।
উদ্ধারকৃত বানরটির গলায় একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস ঝুলানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, গবেষণা বা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এ ডিভাইসটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। পরে মৃত প্রাণীটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বিরল প্রাণী ও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি-
লজ্জাবতী বানর বাংলাদেশে খুবই বিরল একটি নিশাচর প্রাণী। মূলত বনাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় এদের দেখা যায়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (IUCN) ইতোমধ্যেই এ প্রজাতিকে অতি বিপন্ন (Critically Endangered) তালিকাভুক্ত করেছে।
বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মৃত্যুর ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বিস্তৃত হওয়ায় এসব বন্যপ্রাণী প্রায়ই ঝুঁকিতে পড়ে।
সংরক্ষণের আহ্বান-
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল এর মতে, লজ্জাবতী বানর শুধু জীববৈচিত্র্যের অংশ নয়, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আবাসস্থল সংকোচন, শিকার ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি তাদের টিকে থাকার পথ কঠিন করে তুলছে।
তাদের মতে, বিদ্যুৎ লাইন সুরক্ষিত রাখা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই বিরল প্রাণী দ্রুত বিলুপ্তির পথে চলে যেতে পারে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামে বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট
একটি লজ্জাবতী বানর মারা গেছে।
উপসংহার-
শ্রীমঙ্গলের মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এলাকায় একের পর এক লজ্জাবতী বানরের মৃত্যু শুধু স্থানীয় প্রাণপ্রেমীদের নয়, দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বিগ্ন সবার জন্যই বড় সতর্কবার্তা।
এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও সংরক্ষণ এখন আর বিলম্ব করার মতো বিষয় নয়, বরং জরুরি করণীয়।