

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) :
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের দুই বছর পর ও স্বাধীনতার ৪৮বছর পর প্রথমবারের মত উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ির অসংরক্ষিত বধ্যভূমি/ গণকবর পরিদর্শন করলেন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বুধবার সকালে সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্জন কুমার দাস।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই গণকবরের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এজন্য এলাকার প্রবীণ ও মুক্তিযোদ্ধাকালীন সময়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এই গণকবরে/ বধ্যভূমিতে কতজন ও কোন কোন এলাকা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের গণকবর রয়েছে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এসব তথ্য সংগ্রহ করতে নুন্যতম এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তথ্য সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বজলার রশিদ সুন, মোবারকপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইশাহাক আলী, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহা. ইমরান আলী, শিবগঞ্জ উপজেলা এনজিও ফোরামের সভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য তৌহিদুল আলম টিয়া, মোবারকপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা কামাল উদ্দিন, জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা কামরেট ইকবাল মানিকসহ স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, ধোবপুকুর বাজার তরুন উন্নয়ন ক্লাবের সদস্যদের সহযোগিতায় সন্ধান পাওয়া শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ি মৌজায় ৪৪১, ৪৪২ ও ৪৪৩নং দাগের জমিতে ১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশীয় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সেতাউর রহমান ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুুল কুদ্দুস সহ প্রায় ১০০জনকে হত্যা করে গণকবর দেয় পাক হানাদার বাহিনী। তথ্যের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সদস্যগণ সরজমিন পরিদর্শন পূর্বক দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সোনার দেশ সহ
বিভিন্ন পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ২০১৭ সালের ৬ ও ৭ডিসেম্বর বিভিন্ন প্রকাশিত হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে বুধবার সকালে বধ্যভূমিটি পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসনের সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস।