সর্দি-কাশি হলে কি ঠান্ডা খাওয়া নিরাপদ?

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি হলেই অনেকের প্রথম পরামর্শ হলো ‘ঠান্ডা কিছু খেয়ো না!’ আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিঙ্কস তো দূরের কথা, ফ্রিজের পানি খেলেও যেন বিপদ। প্রচলিত ধারণা হলো, ঠান্ডা খাবার খেলেই শরীরে কফ বা শ্লেষ্মা জমবে, সর্দি বাড়বে এবং ভাইরাসের প্রকোপ আরও বেড়ে যাবে। কিন্তু সত্যিই কি বিষয়টি এমন? মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্দি-জ্বর হলেই ঠান্ডা খাবার পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবেনা। সাধারণ সর্দি-জ্বরের জন্য দায়ী ভাইরাসের সঙ্গে আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় পানে সরাসরি সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ আইসক্রিম খেলে ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাবে বা শরীরে বেশি কফ তৈরি হবে-এমন ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঠান্ডা খাবার বা পানীয় প্রত্যেকের শরীরে একইভাবে প্রভাব ফেলে না। কারো ক্ষেত্রে আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানি খেলে গলায় সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, আবার কারো গলায় খুশখুশে ভাব, অস্বস্তি কিংবা কাশি বেড়ে যেতে পারে। আপনার শরীরে কোনটি কীভাবে প্রতিক্রিয়া করছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Manual7 Ad Code

ঠান্ডা খাবারে কি কফ জমে?

Manual8 Ad Code

দুধ, দই কিংবা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার খেলে শরীরে অতিরিক্ত মিউকাস তৈরি হয়, এমন ধারণা অনেক দিনের। কিন্তু সাধারণভাবে দুগ্ধজাত খাবার শরীরে কফ উৎপাদন বাড়ায়, এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে দুধ বা আইসক্রিম খাওয়ার পর মুখ ও গলায় সাময়িকভাবে ঘন বা আবরণযুক্ত অনুভূতি হতে পারে।

সর্দি হলে আইসক্রিম খাওয়া যাবে?

আইসক্রিম ঠান্ডা হওয়ায় খাওয়ার সময় মুখ ও গলায় শীতল অনুভূতি তৈরি করতেই পারে। কিন্তু সেটি শরীরের ভেতরে গিয়ে ঠান্ডা ‘জমিয়ে’ রাখে না। খাবার হজমের সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই শক্তি ব্যবহার করে এবং তাপ উৎপন্ন করে। তাই আইসক্রিম খাওয়ার পর পাওয়া ঠান্ডা অনুভূতিকে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। তবে আইসক্রিমে সাধারণত চিনি ও ফ্যাট থাকে। তাই অতিরিক্ত খেলে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। একই কথা প্রযোজ্য কোল্ড ড্রিঙ্কসের ক্ষেত্রেও। এগুলো সর্দি-জ্বরের ভাইরাস বাড়ায় না, কিন্তু অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরির কারণে নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যকর নয়।

Manual5 Ad Code

কখন ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলবেন?

সর্দি-কাশির সময় আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার পর যদি আপনার গলায় অস্বস্তি, খুশখুশে ভাব বা কাশি বেড়ে যায়, তাহলে কয়েক দিন এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। আবার খেলে যদি কোনো অস্বস্তি না হয়, শুধু ‘ঠান্ডা খাবার খেলেই কফ জমবে’-এই ভয়ে তা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অসুস্থ অবস্থায় শরীরকে আরাম দেওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গলা অস্বস্তিকর লাগলে ঈষদুষ্ণ পানি, স্যুপ বা পছন্দের উষ্ণ পানীয় আরাম দিতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। আর সর্দি-কাশি হলে শুধু খাবারের তাপমাত্রার দিকে নজর দিলেই হবে না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

Manual3 Ad Code

নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাবার বেছে নিন। ঠান্ডা খাবারে অস্বস্তি হলে এড়িয়ে চলুন, আর না হলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার কারণ নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code