

সিলেট বিভাগে করোনা শুক্রবার (১ মে) ডাবল সেঞ্চুরির ঘরে পা রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পর্যন্ত সিলেটজুড়ে করোনাক্রান্ত রোগী ছিল ১১৪ জন। কিন্তু শুক্রবার (১ মে) একদিনেই ১১৫ রোগী শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৯ জনে!
জানা গেছে, সিলেট বিভাগে প্রথম করোনাক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন গত ৫ এপ্রিল। ওই দিন সন্ধ্যায় জানা যায় সিলেটে চিকিৎসক মঈন উদ্দিন আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকের নাদামপুরে। ওসমানী মেডিকেল কলেজের এই সহকারী অধ্যাপক গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের সাঞ্চু মিয়া নামের এক ব্যক্তি করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান ৪ এপ্রিল। তার শরীরের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করা হয়। সেখানে ৫ এপ্রিল ধরা পড়ে তিনি পজিটিভ ছিলেন।
গত ১১ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলায়ও ধরা পড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী। তিনি একজন চালক। নারায়ণগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জে এসেছিলেন তিনি।
গত ১২ এপ্রিল সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার এক নারী করোনাক্রান্ত বলে সনাক্ত হন। তার নমুনা সিলেটে এএমজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। পরদিন (১৩ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের সদরের আরেক নারী করোনা পজিটিভ হিসেবে ধরা পড়েন। এ নারীর নমুনাও ওসমানীতে পরীক্ষা করা হয়।
গত ১৬ এপ্রিল সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার দুই যুবক করোনাক্রান্ত বলে সনাক্ত হন।
গত ২০ এপ্রিল হবিগঞ্জের ১০ জন করোনাক্রান্ত বলে ধরা পড়েন। তন্মধ্যে জেলার লাখাই উপজেলার ৩ জন, বানিয়াচংয়ের ৩ জন, আজমিরীগঞ্জের ২ জন এবং বাহুবল ও চুনারুঘাটের ১ জন করে রয়েছেন।
পরদিন (২১ এপ্রিল) হবিগঞ্জের লাখাই ও আজমিরীগঞ্জের আরো দুই ব্যক্তি করোনাক্রান্ত বলে সনাক্ত হন।
গেল ২২ এপ্রিল সিলেটে ১৩ জন রোগী সনাক্ত হন। তন্মধ্যে ৫ জন হবিগঞ্জ জেলার, সুনামগঞ্জের ৪ জন, সিলেট ও মৌলভীবাজারের ২ জন করে। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের এক স্টোর কিপারও রয়েছেন।
এরপর গত ২৩ এপ্রিল ওসমানীর ল্যাবে ১৪৯টি নমুনা পরীক্ষায় একদিনে ১৬ জন করোনাক্রান্ত রোগী সনাক্ত হন। তন্মধ্যে সিলেটের ৫ জন, সুনামগঞ্জের ৮ জন ও হবিগঞ্জের ৩ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্টোরকিপার রয়েছেন।
গত ২৪ এপ্রিল রোগী সনাক্ত হন ৮ জন। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ৫ জন, মৌলভীবাজারের ২ জন ও সুনামগঞ্জের ১ জন রয়েছেন।
পরদিন হবিগঞ্জের ২১ জন এবং মৌলভীবাজারের একজন করোনা পজিটিভ হিসেবে সনাক্ত হয়েছেন।
২৬ এপ্রিল সিলেটের ১ জন, হবিগঞ্জের ১ জন ও মৌলভীবাজারের ৬ জন করোনাক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত হন।
পরদিন (২৭ এপ্রিল) সিলেটের ২ জন ও সুনামগঞ্জের ১১ জন করোনাক্রান্ত বলে ধরা পড়েন ওসমানীর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায়।
এদিকে, ২৮ এপ্রিল সিলেট বিভাগে করোনাক্রান্ত সনাক্ত হন ১৩ জন। এর মধ্যে ১১ জনই ছিলেন সুনামগঞ্জের। বাকি দুজন সিলেটের।
২৯ এপ্রিল সিলেটের একজন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত বলে জানা যায়।
এছাড়া ৩০ এপ্রিল হবিগঞ্জের এক চিকিৎসক ও এক স্বাস্থ্যকর্মী করোনা পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হন।
সর্বশেষ শুক্রবার (১ মে) সিলেট বিভাগে ১১৫ জন করোনাক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি এন্ড রেফারেল সেন্টারে। বাকিরা সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় সনাক্ত হন।