

সোলেমান হোসেন চুন্নু সিলেট :আসন্ন সিসিক নির্বাচনে কে হবেন সরকার দল আওয়ামী লীগের নতুন মুখ। কে হবেন নতুন নগর পিতা, কে পাবেন সরকার দলীয় নমিনেশন, সিলেট নগর জুড়ে চলছে কানাঘুষা। একডজন মনোয়ন প্রত্যাশী নেতার থেকে দলীয় প্রধান কাকে করবেন নৌকার মাঝি। সে সিদ্ধান্ত জানা যাবে চলতি মাসের মধ্য সময়ের ভিতর। দীর্ঘ তালিকা থেকে একজনকে মনোয়ন দিবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই একজন কে তা নিশ্চিত হতে সময় আছে আরোও প্রায় ১ মাস। রোজার ঈদ পরবর্তী সময়ে দলীয় চুড়ান্ত ঘোষনা আসবে বলে আশা করছেন মনোয়ন প্রত্যাশী নেতাগন।
আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) চতুর্থ নির্বাচন আগামী মে অথবা জুন মাস নাগাদ হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্র থেকে জানা গেছে।এ সময়ের মধ্যে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। সিলেট সিটি নির্বাচন তেমন দুরে না থাকলেও এর মধ্যেই মেয়র পদে প্রার্থীতা নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। সরকার দলীয় এক ডজন প্রার্থী নির্বাচন করার কৌশলগত প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।বর্তমান দুইবারের মেয়র বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এবার তিনি আসন্ন নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হবেন কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। দলীয়ভাবে বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হবে কি না এ নিয়েও রয়েছে কৌশলগত নিরবতা। তাই সরকার দলের মধ্যেই চলছে প্রার্থীতা নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বদ্বিতা, তোড়জোড ও প্রচারণা।
সরকার দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য দীর্ঘদিন যাবত মাঠে ছিলেন, প্রায় এক ডজন নেতা। এরেই মধ্যে হঠাৎ সরগরম হয়ে উঠে নির্বাচনের মাঠে যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রার্থীতা ঘোষনাকে কেন্দ্র করে।গত জানুয়ারি মাস থেকেই তিনি নগরীর নির্বাচনী মাঠে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।ইতিমধ্যে নগর ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে। সরকার দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অনুকুলে বাড়ানোর চেষ্টা করছেন জনসম্পৃক্ততা। মসজিদে মসজিদে ও পাড়া মহল্লায় গিয়ে করছেন নামাজ আদায় ও দোয়া কামনা। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানেও বাড়ছে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি।
সরকার দলের অন্তত এক ডজন নেতার বিলবোর্ড, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে নগর জুডে চলছে প্রচারনা।
এখন পর্যন্ত মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে যারা আলোচনায় এসেছেন তারা হলেন- কেন্দ্র্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক পিপি এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বালাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিসিকের প্রথম মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পুত্র ডা. আরমান আহমদ শিপলু, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, সাবেক কাউন্সিলর বীর মুক্তিযাদ্ধা আব্দুল খালিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য প্রিন্স সদরুজ্জামান চৌধুরী, বাফুফের কার্যনির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম এবং যুবলীগ নেতা লয়লুছ আহমদ চৌধুরী।
আওয়ামী লীগ ছাড়াও সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টিও নির্বাচন প্রার্থী দিবে।
আসন্ন সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি-জামায়াত বা অন্য বড় কোনো রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে নিরব রয়েছে। সরকার দল আওয়ামী লীগের এবার দেওয়া হবে নতুন মুখ তা শতভাগ নিশ্চিত। সেই নতুন মুখ কে হবেন তা এখন দেখার বিষয়। সরকার দলের মধ্যেই মূলত চলছে মনোনয়ন প্রাপ্তির প্রত্যাশা নিয়ে প্রচার প্রচারনা ও দৌঁড়ঝাপ। গত জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া প্রচারণার ধারাবাহিকতায় মাঠ ছাড়ছেন না দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীই।
মনোনয়ন প্রত্যাশী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমনটা বলে বেড়ালেও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন এধরণের কোনো নির্দেশনা এখনো দেননি দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে দলীয় ভাবে প্রার্থী চুড়ান্তের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি বলে বিবৃতিও দিয়েছে মহানগর আওয়ামীলীগ। নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসলে দলের হাইকমান্ড অবশ্য একজনকে বাছাই করে মনোনয়ন দেবেন। আর এ মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় ডজনখানেক প্রার্থী নিজেদের জানান দিয়ে চলেছেন। সিলেট মহনগরীর নির্বাচনী মাঠে, ডজনখানেক প্রার্থী প্রচারণায় মাঠে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কে হবেন নৌকার মাঝি, সেটা দেখতে আর বেশি অপেক্ষা করতে হবে না নগরবাসীকে।