সুদান ঘাস চাষ করবেন যেভাবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

কৃষি ডেস্কঃ 

 

বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে গবাদি পশু পালন বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষিত ও বেকার যুবকরা পশু পালনে এগিয়ে এসেছে। এতে করে পশু পালন আগের থেকে অনেক বেড়েছে। বেড়েছে গবাদি পশুর সংখ্যা তবে আমাদের দেশে গবাদি পশুর সংখা বাড়লেও তাদের খাদ্যের উৎস বাড়েনি। তাই বিভিন্ন ধরনের ঘাস চাষের দিকে নজর দিতে হবে।

বিভিন্ন ধরনের ঘাসের মধ্যে সুদান ঘাস অন্যতম। এ ঘাস চাষ করে গবাদি পশুর খাদ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব। সুদান ঘাস উচ্চ ফলনশীল। এটা গবাদি পশু মোটাতাজাকণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

Manual2 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

তুলনামূলকভাবে যেসব জমিতে পানি জমে থাকে না সেই সকল জমিতেই সুদান ঘাস চাষ করা উত্তম। এ ঘাস সব ধরনের মাটিতেই জন্মে। তবে বেলে দো-আঁশ মাটিতে এর ফলন সবচেয়ে বেশি। এ ঘাসের জন্য উঁচু জমি ভালো।

Manual3 Ad Code

পানি নিষ্কাশনের জন্য ভালো ব্যবস্থা আছে অর্থাৎ, যেখানে বৃষ্টি বা বর্ষার পানি জমে থাকে না এ ধরনের জমি নেপিয়ার চাষের জন্য উত্তম। প্রায় সব ধরনের মাটিতেই এ ঘাস রোপণ করা যায়, তবে বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

সুদান ঘাসের বীজ সারাবছরই রোপণ করা যায়। প্রচণ্ড শীত এবং বর্ষার পানির সময় বাদে সব সময় বীজ বপন করা যায়।

এবার জেনে নিন চাষ পদ্ধতি,-
এ ঘাস চাষের জন্য জমিতে তিনটি থেকে চারটি চাষ দিয়ে এবং মই দিয়ে আগাছামুক্ত করার পর রোপণ করতে পারলে ভালো হয়।

 

Manual2 Ad Code

দেড় টন থেকে দুই টন জৈবসার প্রতি একরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এছাড়া রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি ও পটাশ ইত্যাদি সার ব্যবহার করতে পারেন।

বীজ বপন পদ্ধতি,-
প্রথমে বীজ ১-২ ঘণ্টা মিষ্টি রোদে শুকিয়ে তারপরে নরমাল করে ২৪-৪৮ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন তারপরে জমিতে ছিটিয়ে দিন। পরবর্তী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বীজ জার্মিনেশন হয়ে যায়। চারা ৩-৪ ইঞ্চি হবার পরে একটি সেচ দিতে পারলে ভালো।

সার প্রয়োগ ও পানি সেচ,-
ভালো ফলন ও গাছের বৃদ্ধির জন্য সার এবং পানির প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুমে পানি সেচের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু অন্য সময়ে সাধারণত পানি সেচের প্রয়োজন হয় এবং ইউরিয়া ১৫০ কেজি, টিএসপি ৮০ কেজি, ও এমওপি ৭০ কেজি সার প্রয়োগ করতে হবে।

ঘাস কাটার পদ্ধতি,-
বীজ থেকে চারা হবার পর থেকে ৩৫-৪০ দিন পর প্রথমবার ঘাস সংগ্রহ করা যায়, মাটির ৫-৬ ইঞ্চি উপর থেকে ঘাস কাটতে হয়। তিন সপ্তাহ পরপর পুনরায় ঘাস কাটা যায়। প্রথম কাটিং-এ ফলন একটু কম হলেও দ্বিতীয় কাটিং থেকে পরবর্তী ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত ফলন বাড়তে থাকে।

এরপর আস্তে আস্তে কমতে থাকে। পরে পুনরায় বীজ অথবা কাটিং বা মোথা লাগাতে হবে। প্রত্যেকবার ঘাস কাটার পর একর প্রতি ৬০-৭০ কেজি ইউরিয়া, ৪০-৫০ কেজি টিএসপি, ৪০-৫০ কেজি এমওপি এবং ২-৩ টন গোবর বা কম্পোস্ট সার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

পশুকে খাওয়ানোর নিয়ম,-
জমি থেকে ঘাস কাটার পর ঘাস যাতে শুকিয়ে না যায় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। আস্ত ঘাস গবাদিকে খেতে দিলে অপচয় বেশি হয়। তাই মেশিন, দা অথবা কাঁচি দিয়ে ২-৩ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে খাওয়ানো ভালো। এই কাটা ঘাস খড়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

এ ছাড়া দুই থেকে তিন ইঞ্চি করে কেটে খড়ের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়ানো যায়। নেপিয়ার ঘাসে শতকরা ৭-১২ ভাগ প্রোটিন আছে। সুদান ঘাস শুকিয়ে সংরক্ষণ করা সুবিধাজনক নয়। তবে কাঁচা ঘাস সাইলেজ করে শুষ্ক মৌসুমে সংরক্ষণ করা যায়।

সুদান ঘাস উচ্চ ফলনশীল ঘাস। এই ঘাস চাষের মাধ্যেমে গবাদিপশুর কাঁচা ঘাসের চাহিদা মিটানো সম্ভবপর। কাঁচা ঘাস সাইলেজ ব্যবহার যথাযথভাবে করতে পারলে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে যা দ্বারা ক্রমান্বয়ে দেশের দুধের চাহিদা মিটানো সম্ভব।

সম্প্রতি আমাদের দেশে দুধের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে দুধ উৎপাদন বাড়লে কৃষকের যেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে তেমনি দেশের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code