সৈয়দপুরে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual5 Ad Code

এম আর মহসিন, নীলফামারী:

পৌষের শুরুতেই প্রচন্ড শীতে নীলফামারীর সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চরের জেলাগুলোর মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছেন। শরীরে হুঁল ফোটানো শীতে সব বয়সী মানুষের অবস্থা একেবারে কাহিল। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিল সৈয়দপুরে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবস্থিত আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. লোকমান হাকিম তাপমাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Manual2 Ad Code

বর্তমানে চলতি বাংলা পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহ চলছে। গত ৭ দিন ধরে পর্যায়ক্রমে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার থেকে আগের ৭ দিন ধরে দিনের অর্ধেক সময় থাকছে কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল আকাশ। সাথে হিমেল উত্তরের হাওয়া মিলে জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। প্রচন্ড শীতের দাপটে কাতর মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হয়নি। হাঁড় কাঁপনো শীতের কারণে শহরে ও গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। দিনের শেষে তাপমাত্রা আরো কমে যায়। চার দিক কুয়াশায় ঢাকা সড়কে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীর গতিতে চলাচল করেছে সকাল ও ভোরে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বা মোড়ে জ্বালানো হয়েছে আগুনের কুন্ডলি। চালক ও পথচারীরা হাত ও শরীর আগুনে তাপিয়ে নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে দুস্থ ও গরীব মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীরে উত্তাপ গ্রহণের ব্যর্থ চেষ্টা করেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষগুলো কনকনে শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের নিয়েও পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন।

Manual2 Ad Code

প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ব্যাংক-বীমা ও বিত্তশালীরা অসহায় মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। কিন্তু এবারে শীত মৌসুমের শুরুতেই তেমন একটা শীত না পড়ায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিকে, শীতে কাহিল মানুষগুলো শীতবস্ত্র সংগ্রহে পুরাতন শীতবস্ত্র বাজারে ছুঁটেন। কিন্তু আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে অনেকের পক্ষে তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে, শীতের কারণে মানুষ সর্দি, কাশি, শ্বাষকষ্ট, হৃদরোগ, অ্যাজমা, ডায়রিয়া, ব্রংকো-নিউমোনিয়া,বাত ব্যাধাসহ নানাবিধ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।

Manual8 Ad Code

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আরিফুল হক সোহেল জানান, প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। গত সাত দিনে বহিঃবিভাগে সাড়ে ৩ হাজার ও অন্তঃবিভাগে ৫শত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মো. আবু হাসনাত সরকার জানান, এ জনপদে প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। এর মধ্যে অতি দারিদ্র প্রায় ১৫ হাজার। চাহিদানুপাতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৩৮ শত কম্বল পাওয়া গেছে। যা সৈয়দপুর পৌরসভা ৪৬০ পিস কম্বল বুধবার ও অন্যন্য দিনে ৫টি ইউনিয়নে ৩৪৪০ পিস বিতরণ করা হয়েছে। পুনরায় ৬ হাজারের চাহিদা দেয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজণের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল । এ ছাড়াও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ব্যক্তিগত উদ্যগে এখনও বিতরণ শুরু হয়নি।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code