স্মৃতিতে আলী ইসমাইল মামা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

শেবুল চৌধুরী : মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক বিশিষ্ট গবেষক, কবি, রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক আলহাজ্ব আলী ইসমাইল সাহেব এখন আর আমাদের মধ্যে নেই (ইন্না লিললাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিঊন )।আলী ইসমাইল সাহেবকে নিয়ে কিছু লিখতে হবে হবে তা কখনো ভাবিনি।আমার সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল মামা- ভাগ্নের ।তবে কোন আত্মীয়তা বা রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তিনি ছিলেন আমার আত্মার আত্মীয় । আলী ইসমাইল মামার সাথে প্রথম পরিচয় হয় নব্বই দশকের প্রথম দিকে সম্ভবতঃ তিরানব্বই সাল হবে ।আমি, মুহিবুর রহমান চৌধূরী মঈন, মিছবাউর রহমান মিছবাহ,ফখরুল ইসলাম, সৈয়দ এলাহী হক সেলু, সৈয়দ জমশেদ আলী,সহ (দুংখিত এই মূহুর্তে সবার নাম মনে হচ্ছে না) আমরা মিডলেন্ডস ইয়ুথ এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন করেছিলাম ।সেই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন মুহিবুল রহমান চৌধূরী মঈন এবং সেক্রেটারী ছিলাম আমি । এক দিন মঈন ভাই আমার সাথে আলী ইসমাইল সাহেবের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন একজন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা ,রাজনীতিবিদ এবং একজন বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা হিসেবে। মঈন ভাই আলী ইসমাইল সাহেবের ভাগিনা, সেই সুবাদে আমি আলী ইসমাইল সাহেবকে মামা ডাকতে শুরু করি।

Manual8 Ad Code

তাঁকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী বার্মিংহাম বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন থেকে ।বামিংহাম বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ছিল বাঙালীর সুখ দুঃখ আশা আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল । প্রতি তিন বছর পর পর সংগঠনের নির্বাচন হতো।তারই ধারাবাহিকতায় সম্ভবত চৌরানব্বই সালে(১৯৯৪) আমরা একই প্যানেল থেকে নির্বাচন করি।তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সহ সভাপতি হিসেবে এবং আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে ।আমাদের প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বে ছিলেন মরহুম নূরুন ইসলাম হোসেঈন (সভাপতি) এবং ওয়ালী আহাদ মানিক (সাধারণ সম্পাদক) ।শাপলা প্রতিক নিয়ে আমাদের প্যানেল বিজয়ী হয়েছিল।তখন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনকে আমরা (ওয়েলফেয়ারের টিমের সদস্যরা) সেকেন্ড হোম মনে করতাম ।এই সেকেন্ড হোমের অন্যতম প্রধান ব্যক্তির (আলী ইসমাইল) সান্নিধ্যে থেকে তাঁর চরিত্রের কিছু বিশেষ গুনের সাথে পরিচিত হলাম, যা অনেকের মধ্যে নেই ।অত্যন্ত বন্ধুবৎসল, পরোপকারী এবং আড্ডাবাজ হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল অনন্য । আমাদের কেবিনেটের (ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন) মধ্যে চারিত্রিক দৃঢ়তা ও নীতিতে অবিচল থাকার জন্য তাঁকে ঘিরে সতীর্থ, বন্ধু ও আমাদের জুনিয়রদের একটি বলয় তৈরী হয়, যার মধ্য মনি ছিলেন আলহাজ্ব আলী ইসমাইল ।
আলহাজ্ব আলী ইসমাইল সাহেবের কথা স্বল্প পরিসরে লিখা সম্ভব নয় ? তবে আমরা যাঁরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আলী ইসমাইল সাহেবের সাথে কাজ করেছি ,(কমিউনিটি সেবা বলেন আর রাজনীতি বলেন) সবাই এক মত পোষণ করবেন যে তিনি ছিলেন আগাগোড়া একজন দেশপ্রেমিক ।অদম্য মনোবলের অধিকারী, নিরলস সমাজ কর্মী আলহাজ্ব আলী ইসমাইল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃটেনে ছিলেন ।তখনকার সময় এমন কোন সভা সমাবেশে নেই যেখানে আলী ইসমাইল সাহেবের উপস্থিতি ছিল না।মুক্তি পাগল আলী ইসমাইল সাহেব এক সময় জেনারেল আতাউল গনী ওসমানী সাহেবের কাছে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার জন্য বৃটেন থেকে লিস্ট পাঠিয়েছিলেন । পরবর্তীতে দু’তিন জনকে নিয়ে গ্রীণক্রস সোসাইটি নামে একটা মোবাইল হসপিটাল নিয়ে (ঔষধ সংক্রান্ত) ভারতে গিয়েছিলেন । সেখানে ওসমানী সাহেবের সাথে দেখা করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের কথা তুললে ওসমানী সাহেব বললেন ,আপনারা বৃটেন যান,ডিপ্লোমেটিক ওয়েতে মুক্তিযুদ্ধ করেন ।জাতি সংঘ সহ ইউরোপ আমেরিকায় ক্যামপেইন করেন ।অতঃপর বৃটেন ফিরে এসে আবারো সভা সমাবেশ, ক্যামপেইন সহ বিভিন্ন র এক্টিবিটিসেজড়িয়ে পড়েন । মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর (তাঁদের) দিনরাত পরিশ্রমের কথা অনেকের মনে জাগ্রত রয়েছে ।
(চলবে) ….

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code