১৫ শতাংশ পরিশোধে খেলাপি হবে না বড়রা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual4 Ad Code

অর্থনীতি ডেস্কঃ 

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মতো বড় উদ্যোক্তাদেরও বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

এর আওতায় ঋণের যেসব কিস্তি চলতি বছরের মধ্যে পরিশোধের কথা তার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ জমা দিলেই ওই গ্রাহককে আর ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হবে না। আগের নিয়মে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ পরিশোধের শর্ত ছিল।

এক্ষেত্রে আরও ১০ শতাংশ বেশি ছাড় পেল বড় উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই বিধান ওই দিন থেকেই কার্যকর।

নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব বড় উদ্যোক্তা চলতি বছরে প্রদেয় কিস্তির কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পরিশোধ করবেন তারা ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হবেন না। করোনার কারণে সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণগুলোতে সাধারণ প্রভিশনের অতিরিক্ত আরও ২ শতাংশ প্রভিশন রাখার শর্ত ছিল।

সিএমএসএমই খাতের ঋণের জন্য এ শর্ত শিথিল করে দেড় শতাংশ প্রভিশন রাখার নিয়ম করা হয়েছে। বড় গ্রাহকের ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে ২ শতাংশ হারেই প্রভিশন রাখতে হবে।

Manual4 Ad Code

একইসঙ্গে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হিসাবে ১৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হলে ব্যাংকগুলোর ওইসব হিসাবে আরোপিত সুদ বা মুনাফার অর্থ আয় খাতে স্থানান্তর করতে পারবে। বড় উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রেও এই বিধান কার্যকর হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনসহ (এফবিসিসিআই) ১১টি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বসে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই নির্দেশনা জারি করেছে।

ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফরাহ মো. নাছেরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

Manual2 Ad Code

বৈঠকে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিটিএমইএ) মোট ১১টি সংগঠন ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের সার্কুলার অনুযায়ী, করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিশেষ ঋণ হিসাবগুলোর মধ্যে চলতি বছরের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে যেসব কিস্তি পরিশোধের কথা তার মধ্যে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে তিনি আর খেলাপি হবেন না।

Manual4 Ad Code

বাকি অর্থ পরে পরিশোধ করতে পারবেন। গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধে বিশেষ ছাড় দেয়।

এর মধ্যে চলতি বছর প্রদেয় কিস্তির ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলেই তারা আর খেলাপি হবেন না। কিন্তু বড়দের ক্ষেত্রে এ সুযোগ ছিল না।

Manual7 Ad Code

এরই প্রেক্ষিতে বড় শিল্প উদ্যোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে ছোটদের মতো বড়দেরও ছাড় দেওয়ার দাবি করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তাদেরকেও এ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে বড় উদ্যোক্তাদের পক্ষে আগামী বছরেও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে দাবি জানানো হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আগামী বছর ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব হয়। কেননা ব্যাংক খাতকেও সামনে এগুনোর সুযোগ দিতে হবে।

এছাড়া ব্যবসায়ীরা রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণ সীমা বাড়ানো, স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানোর দাবি জানান। এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।

বৈঠক শেষে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ১৫ শতাংশের সুবিধা ছোটবড় সবাইকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। গভর্নর এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ইডিএফ ঋণ সীমা বাড়ানো, স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময় সীমাও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে তারা পরে জানাবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, চলমান বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এসব বিষয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সার্বিকভাবে বৈঠকের ফলাফল ইতিবাচক।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে গত বছর ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হয়নি। চলতি বছরেও আংশিক ছাড় দেওয়া হয়। আগামী বছর থেকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আপাতত কোনো ছাড় থাকছে না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code