

হাকিকুল ইসলাম খোকন
“জীবন” জ্যামাইকা ইন্টারগেটেড বাংলাদেশী অফির্সাস নেটওয়ার্ক এর প্রথম বনভোজন এবং কমিটি শনিবার, ২৮ জুন, নিউইয়র্কের জ্যামাইকার ক্যানিংহ্যাম পার্কে একতা, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার উৎসবে হয়ে গেল “জীবন” এর প্রথম বনভোজন এবং কমিটি।
২০১৭ সালে, জামাইকা, কুইন্সে একটি শক্তিশালী স্বপ্নের জন্ম হয়—নিউইর্য়কের জামাইকাই বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করা, ক্ষমতায়ন করা এবং অনুপ্রাণিত করার এক মহৎ লক্ষ্য নিয়ে। তখন থেকে ছোট্ট পরিসরে বর্ষবরণ, হলিডে পার্টি, ফ্যামিলি বনভোজন হলেও এ বছর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করে, যখন জামাইকাবাসি নতুন আঙ্গিকে, নতুন নামে একরকম বড় পরিসরে বনভোজন এর আয়োজন করে।
JIBON – Jamaica Integrated Bangladeshi Officers Network এর বনভোজন অনুষ্ঠিত হয় কুইন্সের ক্যানিংহ্যাম পার্কে। ২০১৭ সালের সেই ছোট্ট জামাইকাবাসি গ্রুপ ২০২৫ সালের জুন মাসে পরিচিতি পায় “জীবন” নামে।
এই বনভোজন কেবল একটি আয়োজন ই নয়, বরং এটি ছিল আমাদের ঐতিহ্য, একতা ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল উদযাপন। পরিবার, বন্ধু, এবং সহকর্মীরা একত্রিত হয়েছিল একটি আনন্দঘন দিনে—যেখানে ছিল হাসি, গান, গল্প এবং চিরন্তন স্মৃতি।
ক্যানিংহ্যাম পার্ক যেন সেদিন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ছিল নানান মজার আয়োজন—ফেস পেইন্টিং, বেলুন, জাদু প্রদর্শনী, কটন ক্যান্ডি, বাবল্স , ওয়াটার গান খেলা, আরও অনেক কিছু। বড়রাও উপভোগ করেছেন বিভিন্ন দলগত খেলা, আড্ডা, এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা সবাইকে একে অপরের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
দিনটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল মজাদার খাসির মাংসের ঝোল যা রান্না করেছিলেন নিজেদের সদস্যরা। এই খাবার শুধু মুখরোচক ছিল না—এটি ছিল সংস্কৃতি, ভালোবাসা এবং আতিথেয়তার এক জীবন্ত প্রমাণ।
এই বনভোজন শুধু একটি অনুষ্ঠানের সূচনা নয়, বরং একটি আন্দোলনের শুরু—যা জামাইকাতে বসবাসরত বাংলাদেশি আমেরিকান ল এনফোর্সমেন্ট অফিসারদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কে পরিণত হওয়ার পথে প্রথম ধাপ । বলেছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নবনির্বাচিত কর্মকর্তাগণ।
এই অসাধারণ দিন এবং সংগঠনের অগ্রগতির পেছনে যাঁদের পরিশ্রম ও নেতৃত্ব রয়েছে, তাঁরা হলেন “জীবন” এর ফাউন্ডার ও নির্বাহী বোর্ডের সদস্যরা ।তারা হলেন ফাউন্ডার সার্জেন্ট মেহেদী মামুন ,পুলিশ অফিসার রাজিব ঘোষ এবংপুলিশ অফিসার সর্দার আল মামুন।
নির্বাহী বোর্ডের সদস্যরা হলেন সভাপতি,ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুর,সহ-সভাপতি: পুলিশ অফিসার মোঃ হালিম,সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ রাসেক মালিক, কোষাধ্যক্ষ: ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পঙ্কজ রায়, সহ-কোষাধ্যক্ষ: ট্রাফিক সুপারভাইজার অনিক ইসলাম,ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর: এনওয়াইসি কারেকশন সার্জেন্ট হাসান আহমেদ, স্পোর্টস লিয়াজোন: পুলিশ অফিসার মোহাম্মদ মাকিজ ,মিডিয়া লিয়াজোন ট্রাফিক সুপারভাইজার পাপিয়া শারমিন।
তাঁদের কঠোর পরিশ্রম, আন্তরিকতা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমেই “জীবন” আজ একটি শক্তিশালী, গর্বিত, এবং সক্রিয় কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
এই বছরের পিকনিকে, জীবন গর্বের সাথে কিছু গুণী ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে কমিউনিটি সার্ভিস, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং পেশাদারিত্বের জন্য বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে।
সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন ইন্সপেক্টর আদিল রানা, ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ খানডকার,অবসরপ্রাপ্ত ডিটেকটিভ সেকেন্ড গ্রেড মাসুদ রহমান, মির সাব্বির,জুহাইব চৌধুরী, ফকরুল ইসলাম দেলোয়ার,শাহরিয়ার রহমান,গিয়াস আহমেদ, ড.দিলীপ নাথ,রিনা সাহা,বিলাল চৌধুরী, ডেপুটি ইন্সপেক্টর রালফ এ. ক্লেমেন্ট,টিএসবিএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উদ্দিন, অ্যাটর্নি আফফার বক্স,ভিভিড মর্টগেজ (প্রতিষ্ঠান)।
ক্যানিংহ্যাম পার্কে জীবনের প্রথম পিকনিকে মনে হচ্ছিল জীবন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন, এবং একটি চলমান পরিবর্তনের প্রতীক। প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসীর উপস্থিতিতে জমজমাট ছিল জীবনের বনভোজন। এর মধ্যে বাংলাদেশের এক্স বক্সার ও নিউইয়র্কের অক্সলারি পুলিশের ক্যাপ্টেন এনায়েত আলী , লেফটেন্যান্ট উদ্দিন, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট সোলাইমান , সাহা জে চৌধুরী , মোহাম্মদ জলিল,
রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টর আল আমিন হোসেন , আরিফ হোসেন , এম ডি এ মাসুম , ইজাজ হোসেন, একসময়ের সবার প্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলাইমানসহ আরো অনেক সাংবাদিকসহ কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। র্যফেল ড্র ও আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে শেষ হয় জীবনের প্রথম পিকনিক ও মিলন মেলা। ডেস্ক বিজে