অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী মায়েদের টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

Manual6 Ad Code

অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী নারীদের করোনা টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাদের টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচি থেকে এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা প্রকাশিত হয়। রোববার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার টিকা বিষয়ক জাতীয় কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের করোনার টিকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গর্ভবতী নারীদের সুরক্ষা ওয়েব পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে শুধু হাসপাতালবিশিষ্ট সরকারি টিকাকেন্দ্রে কোভিড-১৯ টিকা দিতে হবে। কেন্দ্রের রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাউন্সেলিং সম্পন্ন সাপেক্ষে গর্ভবতী নারীকে টিকা দিতে হবে।

Manual7 Ad Code

স্বাস্থ্য অধিদফতরের গঠিত ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় গর্ভবতী নারীদের টিকা দেওয়ার শর্তাবলীতে বলা হয়েছে, গর্ভবতী নারী টিকা গ্রহণের দিন অসুস্থ থাকলে তাকে কোডিড-১৯ টিকা প্রদান করা যাবে না। অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীকে কোডিড-১৯ টিকা প্রদান করা যাবে না। কোনও গর্ভবতী নারীর ভ্যাকসিন অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে তাকে কোডিড-১৯ টিকা প্রদান করা যাবে না। কোনও গর্ভবতী নারী যদি কোডিড-১৯ ভ্যাকসিনের ১ম ডোজ গ্রহণের পর এইএফআই কেস হিসাবে শনাক্ত হন তবে তাকে দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করা যাবে না।

‘কোনো গর্ভবতী নারী যদি কোডিড-১৯ ভ্যাকসিনের ১ম ডোজ নেয়ার পর এইএফআই কেস হিসেবে শনাক্ত হন তবে তাকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে না।’

একইসঙ্গে নির্দেশনায় বলা হয় সম্মতিপত্রে টিকাগ্রহীতা/আইনানুগ অভিভাবক ও কাউন্সেলিং চিকিৎসকের স্বাক্ষর ব্যতীত টিকা প্রদান করা যাবে না।

নির্দেশনায় তিন নাম্বারে কাউন্সেলিং উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোডিড-১৯ টিকা গ্রহণে ইচ্ছুক গর্ভবতী নারীকে টিকা প্রদানের পূর্বে অবশ্যই নিম্নোক্ত তথ্যাদি একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অবহিত করতে হবে।

Manual1 Ad Code

সেখানে গর্ভবতী নারীদেরকে গর্ভাবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে অবহিতকরণ নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান জন্মদান (অপরিণত নবজাতক) এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়:

(ক) নবজাতকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়,

(খ) বয়স্ক গর্ভবতী (৩৫ বছর), উচ্চ বিএমআই সম্পন্ন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত নারী গর্ভাবস্থায় (বিশেষ করে ১ম ও ২য় ট্রাইমেস্টার) কোডিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে তা মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে এবং

(গ) সাধারণ নারীদের তুলনায় গর্ভবতী নারীদের কোরিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশংকা অনেক বেশি।

গর্ভবতী নারীকে কোভিড-১৯ টিকার সুফল সম্পর্কে অবহিতকরণ প্রসঙ্গে বলা হয়, কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ করলে কোডিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ও এর ফলে সৃষ্ট জটিলতার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম গর্ভাবস্থায় কোডিড-১৯ টিকা গ্রহণ করলে কোডিড-১৯ এর গর্ভজনিত ঝুঁকিসমূহের সম্ভাবনা কম।

Manual8 Ad Code

গর্ভাবস্থায় কোডিড-১৯ টিকার গ্রহণের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গর্ভবতী নারীদের কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণের লাভ-ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য অপ্রতুল। অন্য যে কোন টিকার ন্যায় কোডিড-১৯ টিকার ক্ষেত্রেও টিকা পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়া নারীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কিত কোনও তথ্য নেই।

নির্দেশনায় সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ শীর্ষক অংশে বলা হয়েছে, উপরোক্ত_নির্দেশাবলী সম্পন্ন করার পর সম্মতিপত্রে (সংযুক্ত) গর্ভবতী নারী ও কাউন্সিলর (রেজিস্টার্ড চিকিৎসক) এর স্বাক্ষর গ্রহণ পূর্বক টিকা প্রদান করতে হবে।

একই নির্দেশনায় স্তন্যদানকারী নারীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদানের পূর্বে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, স্তন্যদানকারী নারীগণকে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। এক্ষেত্রে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতই বিদ্যমান নিয়মাবলী অনুসরণ করে টিকা প্রদান করতে হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২ আগস্ট অন্তঃসত্ত্বা এবং যেসব মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন তাদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার সুপারিশ করে জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি (ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ) নাইট্যাগ।

এই কমিটির সদস্য ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ‌‘আমরা মতামত দিয়েছি যে তাদেরকে টিকা দেয়া যেতে পারে।’ বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের জাতীয় ফোরাম অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গায়নিকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ-ওজিএসবি বেশ কিছুদিন আগেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গর্ভবতী মা এবং যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের টিকার আওতায় আনার আবেদন করে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই এ বিষয়ে আলোচনায় বসে জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর এটা করতে চায়, ওজিএসবি-ও (অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ হাসপাতাল) চায়। তাই আমরা সবকিছু বিবেচনা করে সম্মতি দিয়েছি দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে গর্ভবতী মায়েরা টিকা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে টিকার বিরূপ প্রতিক্রিয়াও মূল্যায়ন করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের টিকা দেয়ার যে ঝুঁকি তা অন্যদের তুলনায় বেশি নয়। আর এজন্যই তাদেরকে টিকা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code