অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়: কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। তাদের তদন্তে নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের প্রমাণই শুধু মেলেনি, নির্যাতনের ধরন এবং নির্যাতনকারীদের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে পৈশাচিক বর্বরতা। উদাহরণস্বরূপ, নির্যাতনের সময় ছাত্রীটি যখন আর্তনাদ করছিলেন, তখন অট্টহাসি আর উল্লাসে মেতে উঠেছিল নির্যাতনকারীরা। ছাত্রীটি চিৎকার করলে তার মুখে গামছা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পানি চাইলেও তাকে পানি না দিয়ে বর্বরোচিত আচরণ করা হয়।

Manual7 Ad Code

এই পৈশাচিক নির্যাতনের বর্ণনা শুনে বিব্রত ও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন খোদ তদন্ত কমিটির সদস্যরাও। ভুক্তভোগীর নির্যাতনের বর্ণনার সময় কিছু ঘটনা এমন ছিল যে, কমিটির পুরুষ সদস্যদের বাইরে বের হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন নারী সদস্য। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই রাতে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের নেত্রী ও শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ৩০৬নং কক্ষ থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে গণরুমে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তাকে গণরুমে নিয়ে যান আইন বিভাগের মীম ও ঊর্মি নামে দুই ছাত্রী। নির্যাতনের পুরো ঘটনায় তারাই ছিলেন সবচেয়ে উগ্র ভূমিকায়।

Manual2 Ad Code

ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনাটি কেবল অনাকাঙ্ক্ষিত নয়, অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই নবীন ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে সরকারসমর্থিত ছাত্রসংগঠনের একাধিক নেত্রীকে অভিযুক্ত করা হয়। ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্টের দুজন বিচারপতি অভিযোগ আমলে নিয়ে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্ট তিন দিনের মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code