অর্থ পাচার: ক্রিপ্টো কোম্পানি বাইন্যান্সকে দিতে হবে ৪৩০ কোটি ডলার জরিমানা - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, সন্ধ্যা ৬:৪৬, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

অর্থ পাচার: ক্রিপ্টো কোম্পানি বাইন্যান্সকে দিতে হবে ৪৩০ কোটি ডলার জরিমানা

newsup
প্রকাশিত নভেম্বর ২২, ২০২৩
অর্থ পাচার: ক্রিপ্টো কোম্পানি বাইন্যান্সকে দিতে হবে ৪৩০ কোটি ডলার জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক:

অর্থ পাচারের মামলায় দায় স্বীকার করেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি বাইন্যান্স। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অপরাধ স্বীকার করে এর প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। এর জন্য বাইন্যান্সকে ৪৩০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

এক্স প্ল্যাটফর্মে টুইট করে ঝাও বলেন, ‘আজ আমি বাইন্যান্সের সিইও পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। এটা ছেড়ে দেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু আমি জানি, এটিই সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি ভুল করেছি ও আমাকে দায় নিতে হবে। এটি আমাদের কমিউনিটির জন্য, বাইন্যান্সের জন্য এবং নিজের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত।’

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাইন্যান্স ও ঝাওয়ের কাছ থেকে ৪৩০ কোটি ডলার জরিমানা ইতিহাসে ফৌজদারি মামলা থেকে পাওয়া অন্যতম বড় অংক।

গারল্যান্ড বলেন, ঝাও জেনে শুনে অর্থ পাচার করেছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান দিয়েছে। শুরু থেকেই আইন না মেনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে মুনাফা করার জন্য পরিল্পিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন ঝাওসহ বাইন্যান্সের অপর নির্বাহীরা। ইরান, সিরিয়া, রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনে এবং আইএসের (ইসলামিক স্টেট) মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে এই কোম্পানির কোটি কোটি ডলারে লেনদেন শনাক্ত হয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে বাইন্যান্স নিয়ে তদন্ত চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন, তিন বছরেরও বেশি সময়ের তদন্তে বাইন্যান্সের ১ লাখের বেশি লেনদেনের সঙ্গে শিশুদের যৌন নির্যাতন, অবৈধ মাদকের কারবার ও সন্ত্রাসবাদের সম্পৃক্ততা মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশন (সিএফটিসি) বলেছে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে লেনদেনের তথ্য পেয়েছিলেন বাইন্যান্সের প্রাক্তন কর্মকর্তা স্যামুয়েল লিম।

আদালতের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আঞ্চলিক বাজারের প্রধান রিচার্ড টেংকে বাইন্যান্সের সিইও নিয়োগ দেওয়া হয়। এই রায় ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বড় ধাক্কা। স্যাম–ব্যাংকম্যান ফ্র্যাইডের জালিয়াতি মামলার রায়ের এক মাস পরে বাইন্যান্সের মামলার রায় হল। এফটিএক্সের (ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি) ধসের জন্য দায়ী করে স্যামের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ তোলা হয়। এ মামলায় তার ১১৫ বছরের সাজা হয়।

এফটিএক্সে ধসের জন্য ঝাও–ও দায়ী ছিলেন। এই ধসের কিছুদিন আগে এফটিএক্সের নথি দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে এই বিষয়ে ঝাও কোনো পদক্ষেপ নেননি। এভাবে তিনি প্রতিযোগী কোম্পানিটির ধস নিশ্চিত করেন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেশভূষা ও চরিত্র ভিন্ন হলেও ঝাও ও ব্যাংকম্যান ফ্র্যাইড- দুজনই ডিজিটাল মুদ্রার জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলিত মুদ্রার জায়গা দখল করবে। বিলিয়নিয়ার ঝাওয়ের জন্ম চীনে। ১২ বছর বয়সে তিনি কানাডায় চলে যান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।