আজ বর্ষীয়ান জননেতা শামসুর রহমানের ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual4 Ad Code

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল):
আজ বৃহস্পতিবার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, টাঙ্গাইল -৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট শামসুর রহমান খান শাজাহানের ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী। ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি টাঙ্গাইলে নিজ বাসভবনে বার্ধক্য জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করেন।
শামসুর রহমান খান শাহজাহান ১৯৩৩ সালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাগুন্তা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। এই পরিবারটি একটি রাজনৈতিক পরিবার । শামসুর রহমানের চাচাত ভাই লুৎফর রহমান খান আজাদ বিএনপির মনোনয়নে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার আপন ভাতিজা আমানুর রহমান খান রানা এই আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ও দশম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের টিকেটে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামসুর রহমান খানের ভাই আমানুর রহমানের খান রানার বাবা আতাউর রহমান খান বর্তমান এমপি।
২০১২ সালের ২ জানুয়ারি সোমবার ভোরে টাঙ্গাইল শহরের পূর্ব আদালতপাড়ায় নিজ বাসভবনে মুক্তিযোদ্ধা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক এই যুগ্ম সম্পাদকের মৃত্যু হয়। শামসুর রহমান খান শাহজাহান মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মুজিবনগর সরকারের পক্ষে দুই নম্বর আঞ্চলিক প্রশাসন পরিচালনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এ আঞ্চলিক প্রশাসনের অধীনে ছিল এবং এই অঞ্চলের সকল নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য উক্ত দুই নম্বর আঞ্চলিক প্রশাসনিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। শামসুর রহমান খান শাহজাহান মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১১ নং সেক্টরের নর্থ ইস্ট জোনে এবং আঞ্চলিক প্রশাসন কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুজিবনগর সরকারের অধীনে ভারতে সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। শামসুর রহমান খান শাহজাহান ১৯৫৪ থেকে ৫৬ সালে পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৬৫ থেকে ৬৬ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৭৯ এবং ১৯৮৬ সালে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
জীবদ্দশায় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি বই রচনা করেন। তার মধ্যে ‘মুক্তিযুদ্ধের ডায়েরি, চিঠি ও স্মৃতিচারণ’ এবং ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবানা’ অন্যতম। তার রচিত ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’ নামে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক নাটক রচনা করেছেন যা বহুবার মঞ্চস্থ হয় যা দর্শকদের কাছে সুনাম কুড়িয়েছে। তাঁর অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঘাটাইল পৌরসভা, হামিদপুর ও টাঙ্গাইলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, সাবেক এমপি আমানুর রহমান খানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code