করোনা মহামারিতে আরত্ত সতর্ক হতে হবে

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

সম্পাদকীয়: 

Manual6 Ad Code

আইইডিসিআর নিয়মিতভাবে করোনার উচ্চ সংক্রমিত এলাকাগুলোয় আক্রান্ত রোগীদের তথ্য অনুসন্ধান, কন্টাক্ট ট্রেসিং ও সন্দেহজনক রোগীদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করছে। বাংলাদেশে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত সংক্রান্ত তথ্য ১৬ মে প্রকাশের পর থেকে আইইডিসিআর এ পর্যন্ত ৫০টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেছে। এসব নমুনার মধ্যে ৪০টি অর্থাৎ ৮০ শতাংশ নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, ৮টি অর্থাৎ ১৬ শতাংশ নমুনায় বিটা ভ্যারিয়েন্ট অর্থাৎ সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহীত ১৭টি নমুনার মধ্যে ১৫টিতে এবং গোপালগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহীত ৭টি নমুনার সবকটিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। খুলনা শহর থেকে সংগৃহীত ৩টি নমুনার সব এবং ঢাকা শহরের ৪টি নমুনার দুটিতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ৭ জনের নমুনায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারত থেকে আগত ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্ত বিভিন্ন জেলার অপর ৩ ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইইডিসিআর বলছে, বাংলাদেশে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কমিউনিটি সংক্রমণ হচ্ছে এবং ভাইরাসটির সংক্রমণের হার দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংক্রমণের হার রোধ করার লক্ষ্যে আইইডিসিআর সবাইকে সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেছে। দেশে করোনায় ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারের বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের হার বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বস্তুত, এখন দরকার সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা। উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী বেশ কিছু এলাকায় এখন লকডাউন বা বিধিনিষেধ চলছে।

Manual4 Ad Code

আমরা মনে করি, এই বিধিনিষেধই যথেষ্ট নয়, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে হলে ব্যক্তি পর্যায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে অবশ্যই। স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম হলো মাস্ক ব্যবহার করা। পরিতাপের বিষয়, মাস্ক পরার বিষয়টিতে সরকার ও সমাজের সচেতন মহল থেকে পৌনঃপুনিকভাবে জোর দেওয়া হলেও এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে না। হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয় দুটিও উপেক্ষিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনাচরণে। অথচ করোনা সংক্রমণের রক্ষাকবচই হলো মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থারও উন্নতি ঘটাতে হবে। খবর পাওয়া যাচ্ছে, সীমান্তবর্তী জেলা-উপজেলাগুলোয় চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের দুটি প্রধান দিক হলো-অক্সিজেন ও আইসিইউ’র ঘাটতি।

এ দুই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার তথা স্বাস্থ্য বিভাগকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর শয্যা সংখ্যা বাড়ানোরও প্রয়োজন রয়েছে। এক কথায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং করোনার সুচিকিৎসা-এ দুই-ই আমাদের রক্ষা করতে পারে করোনাজনিত বিপর্যয় থেকে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code