কাগজে আঁকা শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) ঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ২২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পার হলেও উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ অন্যান্য সব দিবস অস্থায়ী শহীদ মিনার কলাগাছ কিংবা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি করে অথবা অন্য স্থানের শহীদ মিনারে গিয়ে পালন করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শহীদ মিনার নির্মিত না হওয়ায় ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ ভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না হাজার হাজার শিক্ষার্থী। ভাষা শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বড় সাদা আর্ট পেপারে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের ছবি একে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারী দেয়ালে আঠা দিয়ে লাগিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছে বলে জানাগেছে। শুক্রবার ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চেঁচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কর্মসূচী পালন করে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৩৪ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৪ টি, মাদ্রাসা ২২ টি, কারিগরি ৬ ও কলেজ ০৯ টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০টিতে শহীদ মিনার রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরিষাবাড়ী সালেমা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়,
পিংনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পোগলদিঘা এসই এস ডিপি উচ্চ বিদ্যালয়, বগারপাড় উচ্চ বিদ্যালয়, পলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুঠিয়ার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বগারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিংনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরিষাবাড়ী টি টি ডি সি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুস্পপপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দপটল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর পোগলদিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই। সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার বাধ্যতামূলক হলেও ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছরেও উপজেলায় ভাষা শহীদের স্মৃতিচিহ্ন শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাহফুজ মিয়া বলেন, ‘আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার নাই। তাই আমি ও আমার ক্লাসের বন্ধুরা মিলে বড় সাদা কাগজ কিনে আমরা শহীদ মিনার আঁকিয়ে ওয়ালে (বাউন্ডারী) আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছি। আর সেই শহীদ মিনারে আমরা সবাই মিলে ফুল দিছি।
১৩নং চেচিয়াবাধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আকলিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই। তাই মাতৃভাষা দিবসে আমরা স্কুলে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করি। আর এবার শিক্ষার্থীরা প্রতিকৃতি সরুপ শহীদ মিনার আর্ট পেপারে অঙ্কন করে সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে দিবসটি পালন করেছি। আর আমাদের দাবী ‘যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে নতুন প্রজন্মের কাছে এর সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারবো।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠির মাধ্যমে শহীদ মিনার তৈরি ও মাতৃভাষা দিবস পালন করার জন্য বলি। আর এ উপজেলায় প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে বা অন্য স্থানে গিয়ে দিবস গুলো পালন করে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আঃ হালিম বলেন, আমার ১৩৪ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝে মাত্র ১০টিতে শহীদ মিনার আছে। আর অন্য বিদ্যালয় গুলো কাছের কোন বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে পালন করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি আমি ইতি মধ্যেই জেনেছি। আর যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেগুলোর তালিকা তৈরি করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছিলো। নির্দেশনা আসছে আশা করি অতি দ্রুত শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code