

চারঘাট (রাজশাহী):
নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে রাজশাহীর চারঘাটে যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার চৌমহনী সালেহা শাহ্ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানবাধিকার সংস্থা ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’র আয়োজনে ও ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফকরুল ইসলাম। এসিডির ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) শারমিন সুবরীনার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কাটাখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা পারভীন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান। এছাড়া অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিউল আলম রতন, শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক, চারঘাট উপজেলা সোশ্যাল সাপোর্ট কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা, সালেহা শাহ্ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েতুল ইসলাম, এসিডির প্রকল্প সমন্বয়কারী মনিরুল ইসলাম পায়েল,এসিডি প্রোগ্রাম অফিসার রাশিদা পারভীন ও চারঘাট প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাচ্চুসহ চারঘাট উপজেলার ২৫০ জন যুবক-যুবতী ও কিশোর-কিশোরী অংশ গ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, ‘নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করার এখনই সময়। আপনাদের মত যুব সমাজই পারে এই নির্যাতন প্রতিরোধ করতে। আপনারাই পারেন সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে। আপনারা আমাদের ভবিষ্যত, আপনারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দিবেন। তবে আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনে নেতৃত্ব দিতে হলে এখন থেকেই দায়িত্ব নিতে হবে।’
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। যুব সমাজ একত্রিত হয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই সমাজের এই মারাত্মক ব্যাধি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের বাংলাদেশ সরকারের করা নারীর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক এক জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭২.৬% বিবাহিত নারী তাদের স্বামী দ্বারা কোনো না কোন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
২০১৫ সালের পুলিশের তথ্যবাতায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশের মধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ শারীরিক নির্যাতন (৬০.১%) ও যৌন নির্যাতনের (৩৪.২%)। এসিডি’র ডকুমেন্টেশেন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রকাশিত খবরে দেখা যায় রাজশাহীতে ১০৬ জন নারী বিভিন্নভাবে সহিংসতার শিকার হন।