‘জেন জি অলস, এদের ইরান পাঠিয়ে দেওয়া উচিত’

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:সম্প্রতি নিজের প্রজন্ম অর্থাৎ ‘জেনারেশন জেড’ (জেন জি)-কে ‘অলস’ এবং ‘লিবারেল আদর্শে দীক্ষিত’ বলে মন্তব্য করে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এসময় দেশের অর্থনীতি নিয়ে যেসব তরুণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তাদের কিউবা বা ইরানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন ক্যারোলিন।জানা যায়, ২৮ বছর বয়সী লেভিট নিজেও জেনারেশন জেডের একজন প্রতিনিধি। ফক্স নিউজের উপস্থাপক জেসি ওয়াটার্সের সঙ্গে আলাপকালে আজকের তরুণ সমাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক আদর্শ ও মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Manual2 Ad Code

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক নির্বাচনে তরুণ ও বামপন্থী ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের জয়জয়কার নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।আলোচনার একপর্যায়ে উপস্থাপক জেসি ওয়াটার্স মন্তব্য করেন, ‘যখন আপনার কোনো প্রকৃত চাকরি থাকে না, তখন সবকিছুই আপনার কাছে ব্যয়বহুল মনে হবে। আপনি কি মনে করেন এই অভিযোগগুলো (অর্থনীতি নিয়ে) তরুণদের মাঝে প্রভাব ফেলছে?’

Manual4 Ad Code

জবাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমি মনে করি এটি প্রভাব ফেলছে। কারণ এই প্রজন্ম—আমার নিজের প্রজন্ম এবং এটা বলতে আমার খারাপ লাগছে—জেন জি এবং আমার চেয়ে যারা কম বয়সী, তারা মুখে সোনার চামচ নিয়ে বড় হয়েছে। তারা সবকিছু হাতের মুঠোয় পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।’তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি। লেভিটের মতে, ‘আমেরিকা গড়ে উঠেছে মেধাভিত্তিক সমাজ (মেরিটোক্রেসি), কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের প্রচেষ্টায় নিজের ভাগ্য গড়ে তোলার মার্কিন স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে। আমাদের যেকোনো মূল্যেই হোক এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে।’

Manual7 Ad Code

আলোচনাকালে উপস্থাপক ওয়াটার্স জানতে চান, তরুণদের এই মনোভাবের পেছনে শিক্ষকদের কোনো ভূমিকা আছে কি না। লেভিট তার সঙ্গে একমত পোষণ করে এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘উদারপন্থী অধ্যাপক’ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়ী করেন।তিনি সেই সব অভিভাবকদের প্রশংসা করেন যারা তাদের সন্তানদের সাধারণ স্কুলের বদলে ‘হোমস্কুলিং’ (ঘরে বসে শিক্ষা) অথবা খ্রিষ্টান ধর্মীয় স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এসময় এই অভিভাবকেরা চান না যে তাদের সন্তানরা স্কুলগুলোতে কমিউনিস্ট ও চরম উদারপন্থী ধ্যানধারণার সংস্পর্শে আসুক বলে দাবি করেন তিনি।

কথোপকথনের একপর্যায়ে উপস্থাপক ওয়াটার্স রসিকতা করে বলেন, অবাধ্য তরুণদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা উচিত। এর জবাবে লেভিট বলেন, ‘তাদের কিউবা বা ইরানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে তারা খুব দ্রুতই নিজ দেশে ফিরে আসতে চাইবে।’ক্যারোলিন লেভিটের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।লেভিটের এই বক্তব্য মার্কিন তরুণদের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের চরম বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন
অনেক বিশ্লেষক ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code