ধামইরহাট উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আধুনিক পাঠাগার

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual3 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

তমাল ভৌমিক, নওগাঁ :
নওগাঁর ধামইরহাটে মানবিক মানুষ গড়তে এবং বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে আগামী মাসে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পাঠাগার। উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন বাজারে নিজস্ব জায়গায় তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১হাজার ২শত বর্গফুট জায়গা জুড়ে এ পাঠাগার গড়ে তোলা হয়েছে। পাঠাগারটি চালু হলে শত শত মানুষ উপকৃত হবে এমনটিই আশা করছেন সংশ্লিষ্টার।
জানা গেছে, উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানরা মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ওই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ধামইরহাট ও পতœীতলা উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দূর্যোগ মূর্হুতে এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানুষকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ওই ফাউন্ডেশনের অঙ্গ সংস্থা হিসেবে মুজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগারের স্থাপনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গ্রীণ ভয়েস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিবশেবিদ আলমগীর কবির বলেন, বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে এবং মানবিক মানুষ গড়ার লক্ষে তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের উৎসাহ,আগ্রহ সৃষ্টি এবং জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে পাঠাগারের কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল পেশার মানুষ বই পড়ার প্রতি বিমুখ হয়ে পড়ছে। শিক্ষা,বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চা না থাকলে ভালো মানুষ হওয়া যায় না। আগ্রাদ্বিগুন বাজার ধামইরহাট,পতœীতলা ও সাপাহার উপজেলার মধ্যস্থলে অবস্থিত। এই এলাকায় বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠাগারে বসে পড়ার মতো মানসম্মত কোন স্বতন্ত্র পাঠাগার নেই। বই পড়ার প্রতি মরহুম বাবার অনুপ্রেরণায় আমাদের ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকায় গুণী মানুষ গড়ে তোলায় লক্ষে আগ্রাদ্বিগুন বাজারে নিজস্ব জায়গায় তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১হাজার ২শত বর্গফুট জায়গা জুড়ে এ পাঠাগার গড়ে তোলা হয়েছে। জায়গা বাদে প্রাথমিক অবস্থায় এ পাঠাগার স্থাপন করতে তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে হচ্ছে। পাঠাগারটির ডিজাইন করেছেন দেশের প্রখ্যাত নগরবিদ স্থপতি মো. ইকবাল হাবীব। সকল প্রস্তুতি শেষে আগামী সেপেম্বর মাসের ১৫ তারিখে পাঠাগারটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ পাঠাগারে এক সাথে ৩৫ জন পাঠক পড়াশুনা করতে পারবে।
এখানে সাহিত্য, আরবি সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, বিনোদন, শিশু সাহিত্য, বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকাসহ দেশ বিদেশের দূর্লভ আরবি, বাংলা ও ইংরেজি বই থাকবে। পাঠাগারে ক্রীড়া বিষয়ক, বিজ্ঞান ও শিশু কর্ণার থাকবে। ক্রীড়া বিষয়ক কর্ণারে যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবেন ঢাকার একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকতা শফিকুর রহমান শুভ। সকল শ্রেণীর দূর্লভ পাঠ্যবইও থাকবে এ পাঠাগারে। এছাড়া মাসে একবার সাহিত্য আসর এবং সাহিত্য প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে। বিভিন্ন ধরণের শিক্ষণ বিষয় সম্পর্কে প্রতি ১৫ দিন পর পর প্রজেক্টেরের বড় পর্দায় মাধ্যমে বিভিন্ন ডকুমেন্টরী এবং বাংলা ও ইংরেজি সিনেমা প্রদর্শন করা হবে। এলাকায় আলোকিত মানুষ হিসেবে পরিচিত শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজ সেবকদের নিয়ে পাঠাগার পরিচালনায় একটি যুগোপযোগি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে।
আগ্রাদ্বিগুন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সাবিলা শারমিন বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরণের পাঠাগার স্থাপন হওয়ার আমরা শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবো। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থী আগ্রাদ্বিগুন কলেজের ছাত্র সাগর হোসেন বলেন, শুনেছি এ পাঠাগার সব ধরণের বই পড়ার সুযোগ থাকবে। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক দূর্লভ বই আমরা কিনতে পড়তে পারি না। এ পাঠাগারে এ ধরণের বই পড়ার সুযোগ হবে যা আমাদের জন্য খুশির বিষয়।
স্থানীয় চকময়রাম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম খেলাল-ই-রব্বানী বলেন, মানুষের ভিতরের সুপ্ত প্রতিভা, সৃজনশীলতা, মননশীলতা এবং মানবিক মানুষ হওয়ার সূতিকাগার হলো বই। আর এই বই পাওয়া যায় পাঠাগারে। যে দেশে যত বেশি পাঠাগার রয়েছে সে দেশে ততো বেশী জ্ঞানী মানুষ জন্ম হয়।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code