নাচোল ৪ শহীদের স্বীকৃতি মেলেনি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) :
স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌর এলাকার ৪জন শহীদের রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি এমনকি এতবছর পরও শহীদ পরিবারের খোঁজও রাখেনি কেউ। রাস্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি বা অনুদানও পাননি ওই পরিবারের সদস্যরা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে এসব শহীদদের। ওইসময় পাক হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন নাচোল পৌর এলাকার পুকুর পাড়ার আমির হোসেন। তাঁর স্ত্রী জেবুন নেসা বেঁচে আছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন স্বামী দেশের জন্য প্রাণ দিলেন। কিন্তু ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ আমাদের খোঁজ রাখেনি। শুধু জাতির জনকের দেয়া আর্থিক সহায়তার একটি চিঠি বুকে আঁকড়িয়ে শান্তনা দিয়ে আসছি। থানাপাড়ার শহীদ এমরান আলীর স্ত্রী গিনি বেগম বেঁচে থাকলেও ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষরিত ২হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চিঠি ছাড়া আর কোন সহায়তা পাননি। এমরান আলীর একমাত্র ছেলে নাচোল পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আহসান হাবিব জানান, শহীদ পিতার সন্তান হিসেবে নিজেকে গর্ব বোধ করি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও কেউ আমাদের কোন রকম সহায়তা বা খোঁজ খবর রাখেনি। কাদিকোলা গ্রামের শহীদ নূরমোহাম্মদ লুটুর স্ত্রী সাদেনুর বেগম তাঁর স্বামীর নাম উঠতেই হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি দুঃখের সাথে জানান, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর আর্থিক সহায়তার চিঠি ছাড়া তাঁর নিকট স্বামীর আর কোন স্মৃতি চিহ্ন নাই। মোমিন পাড়ার শহীদ আমিনুল ইসলাম ছাত্র অবস্থায় পাক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। তার বড় ভাই হেলাল উদ্দিন তাবলীগ জানান, শহীদ ছোটভাইএর স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও বেঁচে আছি। হয়ত রাস্ট্রও একদিন ভুলে যাবে এসব শহীদদের। আমার ভাই এর মত এসব শহীদ পরিবারও স্মৃতি থেকে মুছে যাবে। যাদের বুকের রক্তে এদেশ স্বাধীন হলো, দেশ পেল একটি লাল-সবুজের পতাকা। কিন্তু আমরা আমাদের স্বজনদের শহীদি স্বীকৃতিটুকুও পেলামনা।
এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মতিউর রহমান জানান, বিষয়টি আমি অনেকদিন পর জেনেছিলাম। ওই শহীদদের স্বীকৃতির জন্য আবেদনও করা হয়েছিলো। কিন্তু কী কারণে যে তাঁরা স্বীকৃতি পাননি, আমার জানার সুযোগ হয়নি। তবে সময় এসেছে ওইসব শহীদদের যথাযোগ্য মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেয়ার। নইলে আমাদের প্রজন্ম মারা গেলে আমরাও ওই শহীদদের নিকট ঋণী হয়ে থাকবো। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের (দায়িত্বপ্রাপ্ত) কমান্ডার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা জনান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, তবে রাস্ট্রীয় স্বীকৃতি নাপেলে আমিতো কিছু করতে পারিনা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code