নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলায় কবিতা পাঠে সাম্প্রদায়িকতা রুখার সংকল্প

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে ৩০তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলায় ‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী কবিতা’ শিরোনামে কবিতা পাঠের আয়োজন করেছে মেলার আয়োজক মুক্তধারা ফাউন্ডেশন।

স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকেলে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুর।

Manual8 Ad Code

তিনি বলেন, “গোটা বিশ্বেই কবিতা দুই ভাগে বিভক্ত। একটি দল মনে করে ফুল-পাখি-হাওয়া-নদী-প্রেম নিয়ে কবিতা লিখেই তাদের দায়িত্ব শেষ। তারা মনে করেন তা থেকেই সবাই বুঝে নেবেন তাদের ব্যঞ্জনা! আর একটি পক্ষ মনে করেন, কবিতা হবে মানুষের অধিকারের ভাষা। কবিতা হবে গণমানুষের বিবেকের প্রতীক। কবিতা সব দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকবে।

“প্রথম পক্ষ, দ্বিতীয় পক্ষের কবিতার সমালোচনা করে বলেন ‘স্লোগান’। যা একেবারেই পানসে একটি কথা। কারণ কবিতা কার জন্য? কবিতা যদি মানুষের জন্য হয়, তবে তাতে তো শাণিত কথা থাকবেই। আজকের বিশ্বে এটা কবিতার প্রধান ধারা।”

কবি মিনার মনসুর আরও বলেন, “এবারের শারদীয় উৎসবে বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা আমাদের চরম লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। আমরা তা মানবো না। মানতে পারি না। কারণ বাংলাদেশের সিংগভাগ মানুষই মুক্তচিন্তা ও ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাই এখানে কিছু দুর্বৃত্ত আক্রমণ করে পার পাবে না। পেতে পারে না।

Manual4 Ad Code

“আজ এখানে কবিতা যারা পড়েছেন, তাদের কবিতা কতটা শিল্পসম্মত তা বিজ্ঞ সাহিত্য সম্পাদক, সমালোচকরা বলতে পারবেন। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক আঁধার-কালে অভিবাসী কবিরা এই যে গর্জে উঠেছেন এটি আমাদের সাহিত্যের ঐতিহ্যের অংশ। নিউ ইয়র্কে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে আমি টিএসসি চত্বরে দাঁড়িয়েই কথা বলছি, কবিতা পড়ছি। আর তা বিশ্বের অনেক ভাষাভাষি মানুষ অনলাইন মিডিয়ায় দেখছেন। এটাই আমাদের কবিতার মূল ঐক্যধারা।”

Manual1 Ad Code

ফকির ইলিয়াসের সঞ্চালনায় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন মেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন নবী, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি লেখক ফেরদৌস সাজেদীন ও জাফর আহমদ রাশেদ।

ফেরদৌস সাজেদীন তার বক্তব্যে এ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, “আমরা প্রতিবাদ করেই যাবো। বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন আমরা মানবো না।”

নুরুন নবী বলেন, “অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা এই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবো না। বাংলাদেশের যে কোনো সংকটে অভিবাসীরা পাশে ছিলেন এবং আছেন। এ বিষয়ে আমরা কোনো আপোস করবো না।”

অনুষ্ঠানে কবিতা পড়েন জাফর আহমদ রাশেদ, হুমায়ুন কবীর ঢালী, সৈয়দ মামুনুর রশীদ, আনোয়ার সেলিম, মিশুক সেলিম, আদনান সৈয়দ, এবিএম সালেহ উদ্দিন, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, আহমেদ ছহুল, আবু সাঈদ রতন, ইশতিয়াক রুপু, শাহাব আহমেদ, খালেদ সরফুদ্দীন, আলম সিদ্দিকী, রানু ফেরদৌস, বেনজির শিকদার, মীম নওশীন নওয়াল খান, জেবুন্নেছা জোৎস্না, সবিতা দাস ও আবুল বাশার।

কবি সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা আবৃত্তি করেন পারভীন সুলতানা। কবি আবিদ আজাদের কবিতা আবৃত্তি করেন সাহিত্য একাডেমি নিউ ইয়র্কের পরিচালক মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সউদ আহমদ চৌধুরী, হাসান ফেরদৌস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code