

যুক্তরাষ্ট্র অফিস
নিউ ইয়র্ক সিটির মিডটাউনে একটি অফিস ভবনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ম্যানহাটনের একটি আকাশচুম্বী ভবনের ভেতরে অফিসে ঢুকে বন্দুকধারী গুলি চালায় এবং তারপর সে আত্মহত্যা করে।
স্থানীয় সময় সোমবার ম্যানহাটনের মিডটাউনে অবস্থিত একটি অফিস ভবনে এ গুলির ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে ব্ল্যাকস্টোন বিনিয়োগ সংস্থা এবং এনএফএলের সদর দপ্তর অবস্থিত।
পুলিশ জানিয়েছে, যে সন্দেহভাজন বন্দুকধারী এখন মৃত। তার কাছে গোপনে বন্দুক বহন করার লাইসেন্স ছিল। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, তার একটি মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিগত তদন্তকারী লাইসেন্সও ছিল।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে, বুলেট-প্রতিরোধকারী জ্যাকেট পরে এআর-স্টাইলের রাইফেল নিয়ে হামলা চালিয়েছিল এই বন্দুকধারী। পার্ক অ্যাভিনিউয়ের আকাশচুম্বী ভবনের ভিতরে এই হামলা চালানো হয়েছে।
‘এই মুহূর্তে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং একমাত্র বন্দুকধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন যে ঘটনাস্থলে বন্দুকধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এনওয়াইপিডির বিশাল টাওয়ারের প্রতিটি তলা অনুসন্ধান করা হয়েছে যাতে সবাই নিরাপদে থাকে এবং অন্য কোনও গুলি না ঘটে।
হামলার পর বন্দুকধারী ভবনের ৩২তম তলায় লুকিয়ে পড়ে। এর জেরে সেই বিল্ডিংটি লকডাউন করা হয়। পরে নিউ ইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেসিকা ঢিশ জানান, বন্ধুকধারী মারা গিয়েছে এবং জায়গাটিকে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
ম্যানহাটনের একটি অফিস ভবনে যে বন্দুকধারী পাঁচজনকে হত্যা করে তার নাম শেন তামুরা। ৪৪ নিহত তামুরা নেভাদার বাসিন্দা ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা তামুরার দেহ থেকে শনাক্তকরণের প্রমাণ পেয়েছেন, যার মধ্যে লাস ভেগাসের একটি গোপন বন্দুক বহনের পারমিটও রয়েছে, বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ফক্স নিউজের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় ৬জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। জানা যায়, বন্দুকধারীকে শনাক্ত করতে পার্ক অ্যাভিনিউতে ড্রোন উড়িয়েছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশ। এদিকে যে বিল্ডিংয়ে এই কাণ্ড ঘটেছে, সেখানে কেপিএমজি, ব্ল্যাকস্টোন, ডয়েশ ব্যাঙ্কের অফিস আছে। এমনকী মার্কিন ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (আমেরিকান ফুটবল) হেডকোয়ার্টারও এই বিল্ডিংয়েই।
এদিকে এই হামলায় মৃত পুলিশকর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস।