

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) :
পদ্মা নদীতে পেতে রাখা এক জেলের নেট দুয়াড়িতে ধরা পড়েছে মিঠাপানির বিরল প্রজাতির বিপন্ন প্রায় এক ঘড়িয়াল । ঘড়িয়ালটি রাজবাড়ী জেলা বন বিভাগ উদ্ধার করে বুধবার বিকাল ৩ ঘটিকায় দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ে আসে। পরে সেখান থেকে ঘড়িয়ালটিকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে সংরক্ষণের জন্য ঢাকা বন্যপ্রানী ইউনিটের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
জানাযায়, রাজবাড়ীর হাবাসপুর এলাকার পদ্মা নদীতে মাছ শিকারি মোঃ বাদশা মিয়া নদীতে তিনটি নেট দুয়াড়ির পেতে রাখেন।এর একটিতে ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি সাইজের লম্বা বিপন্ন প্রায় ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘড়িয়ালটি উদ্ধার করে জেলা বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করেন। অভিজ্ঞদের মতে, এটি গোত্রভুক্ত ঘড়িয়াল শ্রেনী। এটি মেছো কুমির এবং ঘট কুমির নামেও পরিচিত।এদের প্রধান খাদ্য মাছ বলেই অনেকেই মেছো কুমির বলে। বাংলাদেশে পদ্মা, যমুনা,ও ব্রহ্মপুত্র নদী এবং এগুলোর শাখা- প্রশাখায় এক সময় এদের প্রচুর দেখা যেত।
কিন্তু আবাসস্থল সীমিত হয়ে আসায় বর্তমানে বাংলাদেশে প্রজননক্ষম কোন ঘড়িয়াল প্রকৃতিতে নেই বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারনা। ঘড়িয়াল মহাবিপন্ন প্রানি যা বন্য প্রানি ( সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ দ্বারা সংরক্ষিত।
সৌখিন মাছ শিকারী মো. বাদশা সরদার বলেন , বাড়ীর পাশেই পদ্মা নদী। শখ করে নেট দিয়ে তিনটি দুয়াড়ি তৈরী করেছি। দুয়াড়িটি উঠাতেই বড় মাছ মনে করে আনন্দে চিৎকার দেই। পরে পানি থেকে উপরে এনে দুয়াড়ি খুলে দেখে মনে করি এটি কুমির। কুমিরটি দেখার জন্য প্রচুর লোকজন ভিড় করে।
স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় কুমিরটি উপজেলা প্রশাসনের নিকট দিয়ে দেই।
রাজবাড়ী জেলা বন কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন , ঘড়িয়ালটি উদ্ধার করে সংরক্ষনের জন্য ঢাকা বন্য প্রানী ইউনিটের কর্মকর্তারা গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট এলে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ঘড়িয়ালটি নিতে আসা ঢাকা বন্য প্রানি ইউনিটের পরির্দশক মো. আব্দুল্লাহ আস সাদিক বলেন , মহাবিপন্ন ঘড়িয়ালটি গাজিপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে সংরক্ষন করা হবে। সাফারি পার্কে আরো তিনটি ঘড়িয়াল রয়েছে। এটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ওই তিনটির সাথে রাখা হবে।