পানির নিচে বসতবাড়ি - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, ভোর ৫:২৪, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

পানির নিচে বসতবাড়ি

ADMIN, USA
প্রকাশিত জুলাই ৪, ২০২১
পানির নিচে বসতবাড়ি

এম.এ হান্নান, বাউফল:
উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বাউফলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নিন্মাঞ্চলের গ্রামের পর গ্রাম। পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষ। তীব্র পানির স্রোতে বেড়িবাধ, কাঁচা, পাকা- আধাপাকা সড়ক ভেঙে গেছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। নষ্ট হয়েছে ক্ষেতের ফসল ও পুকুরের মাছ। বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার নদীয় বেষ্ঠিত ও নদী তীরবর্তী ইউনিয়ন গুলো। নদীতে স্বাভাবিক জেয়ারের চেয়ে ৬ থেকে ৮ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে চন্দ্রদ্বীপ। মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া জোয়ারে এস এলাকা প্লাবিত হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,‘ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাউফল উপজেলা থেকে বিছিন্ন তেতুলিয়া নদী বেষ্ঠিত ইউনিয়ন ইউনিয়ন চন্দ্রদ্বীপ, নদীর তীরে অবস্থিত ইউনিয়ন কালাইয়া, নাজিরপুর, কেশবপুর ও ধুলিয়া ইউনিয়নে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। পানির চাপে ভেঙে গেছে রাস্তা ও বেড়িবাধ।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে প্রায় ১৭টি পাকা- আধা পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। প্রায় ৮ফুট পানিতে ডুবে গেছে রায়েসাব,চরমিয়াজান, দিয়ারা কচুয়া চরওয়াডেল ও দিক্ষণ চর ওয়াডেল গ্রাম। নষ্ট হয়েছে মুগডাল,মরিচ, বাদাম ও তিল। অধিকাংশ বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এই ইউনিয়নের দিয়ারা কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো.কালাম প্যাদা বলেন,‘ পানিতে ঘর তলিয়ে গেছে। ছেলে মেয়ে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র অবস্থা নিয়েছে।
ধুলিয়া ইউনিয়নের চর বাসুদেবপাশা, কাছিপাড়ার চরপাকডাল, বগার বালিয়া এলাকা লোহালিয়া এবং তেঁতুলিয়া নদীর ফুঁসে উঠা পানিতে ৬ থেকে ৭ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকার প্রায় সকল পুকুর এবং মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। ফলে মাছ চাষিরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মূক্ষিণ হতে হবে। এছাড়া পানির তোরে ক্ষতি হয়েছে মুগ, মসুরি, মরিচ এবং তিগ তিল-তিশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির রবিশষ্যের। দেখা গেছে উল্লেখিত ইউনিয়নগুলোর বেশিরভাগ অংশেই বেড়িবাঁধ নেই। যতটুকু আছে সেটকুও মেরামতের অভাবে ভগ্নদশা হয়ে রয়েছে। এদিকে ২০২০-২১ অর্থ বছরে যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে তার প্রায়টাই ধংস হয় গেছে। বিনষ্ট হয়েছে কেশবপুরের গুচ্ছ গ্রাম।
কেশবপুর ইউনিয়নের চর মমিনপুর প্রায় ৮ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ওই ইউনিয়নের কালামিয়ার বাজার থেকে মমিনপুর ও হাজিরহাট বাজার পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তার প্রায় ২৫টি স্থান ভেঙ্গে গ্রামের জনবসতিতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে প্রায় দুই শতাধিক পুকুর এবং শতাধিক মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। কালাইয়া ইউনিয়নের চরকালাইয়া, চর শৌলা ও বগী এলাকায় প্রায় ৭ফুট পানি বেড়েছে। ভেঙে গেছে বগী – কালাইয়া সড়কের ১০০মিটার।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান হিমু জানান, বেশিরভাগ রবিশষ্য উঠে গেছে। তবে এখনো মাঠে বেশ কিছু রবিশষ্য রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব এখনি বলা যাচ্ছে না। আমাদের লোক মাঠে রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করছেন। বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন জানান, আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা কমিটির সভা করে সকল ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছি। যে কোন ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার জানান, আমরা সকল ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। প্রয়োজন হলেই আমরা মাঠে নেমে পড়বো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।