

নিউজ ডেস্কঃ
ইউক্রেনে হামলার আশংকার মধ্যে আরো আতংক বাড়ালেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার খুব ভাল প্রস্ত্ততি নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস তার সফরও সংক্ষিপ্ত করেছেন। তিনিসহ বিশ্ব নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন হামলা থেকে পিছু হটাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এই সপ্তাহেই হামলার আশংকা থাকলেও বিশ্ব নেতাদের কূটনীতি এখনো পর্যন্ত সফলতা দেখাতে পারেনি। খবর বিবিসি ও সিএনএনের
ইউক্রেনের সরকার রাশিয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় নিরাপত্তা গোষ্ঠীর মধ্যে জরুরী বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেছেন, রাশিয়া কেন সীমান্তে এতো সৈন্য জড়ো করছে, সেটি ব্যাখ্যা করার জন্য তারা বার বার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও রাশিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাশিয়া বার বার বলছে, ইউক্রেনে কোন অভিযান চালানোর পরিকল্পনা তাদের নেই, যদিও তারা এক লাখের বেশি সৈন্য ইউক্রেনের সীমান্তে জড়ো করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, রাশিয়া যে কোন সময় ইউক্রেনে বোমা হামলা শুরু করতে পারে। এরই মধ্যে এক ডজনেরও বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রিসটাইকো অবশ্য পরে আরেকটি সাক্ষাত্কারে বলেন, ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার ব্যাপারটি ইউক্রেনের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। আর ইউক্রেন ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার জন্য তৈরি কিনা, সেই সিদ্ধান্তের ভার ন্যাটো সামরিক জোটের ওপর।
ইউক্রেন এরই মধ্যে অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি এন্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ (ওএসসিই) নামের ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্হাকে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে। ইউক্রেন চায়, রাশিয়া এই বৈঠকে ব্যাখ্যা করুক কেন তারা সীমান্তে এত সৈন্য জড়ো করেছে| ‘ভিয়েনা দলিল’ নামে যে চুক্তি আছে, তাতে ওএসসিই’র যে কোন সদস্য অন্য যে কোনো সদস্যের সামরিক তত্পরতার তথ্য জানতে চাইতে পারে| রাশিয়াও এই চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বলেন, ওএসসিই’র সীমানার মধ্যে অখণ্ড নিরাপত্তার যে কথা রাশিয়া বলে, সেটাকে যদি তারা সত্যিই গুরুত্ব দেয়, তাহলে সামরিক তত্পরতার স্বচ্ছতার ব্যাপারে দেওয়া অঙ্গীকার তাদের পূরণ করতে হবে, যাতে করে উত্তেজনা কমানো যায় এবং সবার জন্য নিরাপত্তা বাড়ানো যায়।
রাশিয়া বলছে, ইউক্রেন সীমান্তে তারা কেন সৈন্য মোতায়েন করেছে, সেটা তাদের ব্যাপার, কারণ এটা তারা করছে নিজেদের দেশের মধ্যে। রবিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ বলেন, একটি রুশ অভিযান আসন্ন বলে যেসব হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে চলেছে, তা হিস্টিরিয়ার চূড়ান্ত।
এদিকে রাশিয়া আক্রমণ করতে পারে বলে যে আতংক ছড়ানো হচ্ছে, তার সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, সামনের কয়েকদিনে রাশিয়া আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছে এমন কোন প্রমাণ তিনি এখনো দেখেননি।
রবিবার তিনি টেলিফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন। হোয়াইট হাউজ জানায়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের কথা পুর্নব্যক্ত করেছেন এবং দুই নেতাই কূটনীতি এবং সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
এই টেলিফোন আলাপের ব্যাপারে ইউক্রেনের দিক থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আলাপের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে ইউক্রেন সফরে আমন্ত্রণ জানান। তবে এই আমন্ত্রণের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ কোনো মন্তব্য করেনি। শনিবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যেও এক ঘণ্টা ধরে টেলিফোনে কথা হয়েছে| তবে এই আলোচনায় সামনে এগুনোর কোন পথ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংঘাত এড়ানোর একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলত্জ গতকাল কিয়েভে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনিও রাশিয়াকে হুমকি দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে কথা রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে ওলাফ শোলত্জ জার্মানির নতুন নেতা হিসেবে অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের কাছ থেকে দায়িত্ব নেন। তিনি রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইউক্রেনে কোন অভিযান চালানো হলে রাশিয়াকে মারাত্মক অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। অন্যান্য পশ্চিমা দেশ এবং ন্যাটো মিত্ররাও এর আগে একই হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তবে শোলত্জের এই উদ্যোগে কোন অগ্রগতির সম্ভাবনার ব্যাপারে বার্লিনের সরকারি কর্মকর্তারা ততটা আশা দেখছেন না। এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও রাশিয়াকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়া হামলার চূড়ান্ত প্রস্ত্ততি নিয়ে ফেলেছে। বরিস উত্তর পশ্চিম ইংল্যান্ডের তার সম্ভাব্য সফরও সংক্ষিপ্ত করেছেন।