ফুলপুরে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হচ্ছে সৌদী খেজুর চারা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

এম এ মান্নান, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে বাণিজ্যিকভাবে সৌদী খেজুর চাষ শুরু হয়েছে। গত ৪ বছর আগে ২০১৭ সনে ৮টি চারা দিয়ে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পুরাতন ডাকবাংলা রোডে খরিয়া নদীর পাড়ে ১০ শতাংশ জমিতে প্রথম সৌদী খেজুর চাষ শুরু করেন সাহাপুর গ্রামের কৃষক ও ফার্ণিচার ব্যবসায়ী মো. আবুল কাশেম (৩৭)। সম্ভাবনাময় ও পরীক্ষামূলক এ বাগানের উন্নতি দেখে নিজ গ্রামে আরো ৫৬ শতাংশ জমিতে তিনি আরেকটি খেজুর বাগান করেন। এখন তার ২টি বাগানে আজুয়া, শুক্কারী ও বকরীসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩ হাজার খেজুর চারা রয়েছে। প্রথম যে চারাগুলো রোপন করা হয়েছিল ওইগুলোতে ফলন এসেছে। এছাড়া বর্তমানে চারা বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে এবং বিক্রি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার দুলচাপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম নামে সাবেক এক সেনাসদস্য ১২টি খেজুর চারা কিনে নেন। তিনি রূপগঞ্জের কাঞ্চন এলাকার মাসকো ডেইরি ফার্মের ম্যানেজার। বাড়িতে একটি মিনি বাগান গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানাজাতের চারা সংগ্রহ করছেন এই সৌখিন সেনাসদস্য। এছাড়াও শেরপুর ও জামালপুরসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে সৌদি খেজুরের চারা কিনে নিচ্ছেন। আগ্রহীরা কাশেমের ০১৯৭৮৮৩৪২৮৪, ০১৭১৮৩৮৪২৮৪ ও ০১৮৬৯৫৩১৪৯৬ নাম্বারে চারার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। কাশেম ভালুকার খেজুর মোতালেবের নিকট থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে শুরু করেন এ বাগান। পরে খেজুর চাষ বিষয়ে ১৮ বছরের অভিজ্ঞ জ্ঞানেন্দ্র বাবু নামে এক উস্তাদ ধরেন তিনি। উস্তাদের বুদ্ধি পরামর্শ ও দিক নির্দেশনায় কাজ চালিয়ে উন্নতির হাতছানি দেখতে পান তিনি। ফলে বাগানের পরিধি ও আয়তন আরো বৃদ্ধি করেন কাশেম। এক ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তানের জনক কাশেম তার ছেলের নামে বাগানের নাম দিয়েছেন ‘আব্দুল্লাহ আন্-নূর সৌদী খেজুর বাগান’। তার বাগানের খেজুর গাছগুলো কলা গাছের ন্যায় একেকটা ২০ থেকে ২৫টা করে বাচ্চা দেয়। বৃহস্পতিবার বিকালে পুরাতন ডাকবাংলা রোডে ঢুকলে চোখে পড়ে মুগ্ধ হবার মত এই অপূর্ব সুন্দর বাগান। দেখা যায় ছোট ছোট খেজুর গাছে মোচা বের হচ্ছে। একই গাছের গোঁড়ায় চতুর্দিকে বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। এগুলো কলম কেটে আলাদা করা যায়। প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীরা দেখতে আসছে কাশেমের সৌদী খেজুর বাগান। দেখে সুন্দরই লাগে। কেউ কেউ আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন এমন একটি বাগান করার জন্য।
শেরপুর রোড মোড়ে ‘কাশেম ফার্ণিচার মার্ট’ নামে কাশেমের একটি ফার্ণিচারের দোকান রয়েছে। দোকানে সময় দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে কর্মচারীদের সাথে নিজেও খেজুর বাগানের পরিচর্য্যা করেন তিনি। খরিয়া নদীর পাড়ে উন্মুক্ত ও অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশে গড়ে ওঠেছে কৃষিপ্রিয় কাশেমের খেজুর বাগান। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি নিজেই সেলু মেশিন দিয়ে বাগানে পানি দিচ্ছেন ও আগাছা পরিস্কার করছেন। এ সময় তার সাথে কথা বলে জানা যায়, বাগানটিতে বছরে তিনবার খাদ্য দিতে হয়। গাছের গোড়া পরিস্কার রাখতে হয়। বর্তমানে তার বাগানের চারা বিক্রির উপযুক্ত হয়েছে এবং প্রতিটি চারা ২শ থেকে ৫হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আগ্রহীরা বাগান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন এবং এর চাষ পদ্ধতি মালিকের নিকট থেকে জেনে নিতে পারবেন। তিনি বলেন, বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছতে আমার প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বীজ আমদানি, শ্রমিক খাটানো, সার গোবর ও খাবার সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে আমার এ খরচটা হয়েছে। তবে বর্তমানে বাগানের যে লাবণ্যতা, তা দেখে খুশিই লাগে। আনন্দ পাই। আশা করছি, অচিরেই লাভের মুখ দেখতে পারব। তিনি জানান, তার বাগানে ২শ থেকে ৫ হাজার টাকা দামের প্রায় ৩ হাজার চারা রয়েছে। সঠিক দামে এগুলো বিক্রি করতে পারলে খরচ বাদে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমার বাগানে কেয়ার টেকার হিসেবে ২জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমি এর পরিধি আরো বাড়াতে পারব এবং আরো বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সৌদী খেজুর উৎপাদনে বাংলাদেশের মাটি খুবই উপযুক্ত। ইতোমধ্যে সীড স্টোর, নরসিংদি, হুমায়ুন আহমেদের নুহাস পল্লী সংলগ্ন আলিমপাড়া, ভালুকা ও গাজীপুরসহ আমাদের ফুলপুরে এর চাষ শুরু হয়েছে। এটি লাভজনক উচ্চ মূল্যের একটি ফসল। উহা সফল হলে অর্থনৈতিক উন্নতিসহ পুষ্টি ও খাদ্য ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code