

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ১১টি উপজেলায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান এবং ১শ’৪ হেক্টর জমির শাকসব্জি সম্পূর্নভাবে বিনষ্ট হয়েছে। বিনষ্ট হয়ে যাওয়া ধান এবং শাকসব্জির আর্থিক মূল্য ৭১ কোটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ধানের আর্থিক মুল্য ৬৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং সব্জির আর্থিক মুল্য ৭ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা।
এছাড়াও জেলায় বন্যায় ৩শ’২৪ জন পুকুর মালিকের ৪শ’ ৪৭টি পুকুর সম্পূর্নভাবে ভেসে গেছে। এতে ৩শ’ ৫১ হেক্টর জলাবিশিষ্ট এসব পুকুর মালিকদের ১ হাজার ৫শ’ মেটিকটন মাছ ভেসে গেছে। ফলে এসব পুকুর মালিকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৩ কোটি ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ধান, সবজি ও মাছের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১শ’ কোটি টাকা মূল্যের উপর।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের মোট সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬শ ১১ জন। এদের মধ্যে রোপা আমন ধানের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ৩৪ হাজার ৪শ’ ৯৯ জন এবং শাকসব্জির ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সংখ্যা ৩ হাজার ১শ’ ১২ জন। দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্যার ফলে জেলার উপজেলা ভিত্তিক বিনষ্ট হয়ে যাওয়া রোপা আমন ধানের জমির পরিমাণ হচ্ছে মান্দায় ১ হাজার ৪শ’ ৪০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ২ হাজার ১শ’ ৮০ হেক্টর, রাণীনগরে ৭শ’ ৫৪ হেক্টর, নওগাঁ সদরে ৭শ’ ৩২ হেক্টর, বদলগাছিতে ৮০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১শ’ ২৩ হেক্টর, পতœীতলায় ১০ হেক্টর, সাপাহারে ৩শ’ হেক্টর, পোরশায় ৮৩ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ৩০ হেক্টর। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী বিনষ্ট হয়ে যাওয়া জমি থেকে ১৭ হাজার ৬শ’ ৩৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হতো। এই চালের আর্থিক মূল্য ৬৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
অপরদিকে জেলার রাণীনগরে ৪ হেক্টর, বদলগাছিতে ২৫ হেক্টর, পতœীতলায় ৩০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১৬ হেক্টর এবং মান্দায় ৩০ হেক্টর জমির শাকসব্জি সম্পূর্নভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া শাক সব্জির বাজার মুল্য ৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
জেলার কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ জানান, জেলার বিভিন্ন ভাবে ফসলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। সরকারীভাবে তাদের বিশেষ প্রনোদনা দেয়ার প্রয়োনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প ফসল উৎপাদনে উৎসাহিত করা হবে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় বারের বন্যায় নওগাঁ সদর এবং আত্রাইয়ে পুকুর মালিকদের পুকুর ভেসে গিয়ে এই ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তিনি জানান এই পর্যায়ে আত্রাইয়ে ১শ’ ৭১ জন মালিকের ৩শ’ ১হেক্টর জলাবিশিষ্ট মোট ৩শ’ ৪৭টি পুকুর ভেসে গেছে। এর ফলে ১ হাজার ৪শ’ ৯ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। যার আর্থিক মুল্য ২২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
অপরদিকে নওগাঁ সদর উপজেলার ১শ’৫৩ জন মালিকের ৫০ হেক্টর জলা বিশিষ্ট মোট ১শ’টি পুকুর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এর ফলে এসব পুকুরের ৪৬ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে যার আর্থিক মুল্য ৬৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। ভেসে যাওয়া মাছের মধ্যে রয়েছে দেশীয় প্রজাতির রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউসসহ পাঙ্গাস, পাবদা, ট্যাংরা ইত্যাদি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মেদ জানান, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পুকুর এবং পুকুর মালিকদের একটি তালিকা তৈরী করে উর্ধতন কর্ত্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ের সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে সরকার কর্ত্তৃক এসব ক্ষতিগ্রস্থ পুকুর মালিকদের প্রনোদনা দেয়া হবে।