বসনিয়ার জঙ্গলে বাংলাদেশিসহ কয়েক শ’ অভিবাসীর আশ্রয়

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজডেস্ক:

বসনিয়ার জঙ্গলে বাংলাদেশিসহ কয়েক শ’ অভিবাসী আশ্রয় নিয়েছেন। যাদের লক্ষ্য স্বপ্নের ইউরোপ।

তারা খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড শীতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। মানব পাচারের শিকার হয়ে চলতি সপ্তাহে স্লোভেনিয়ায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আটকের খবরের মধ্যেই বুধবার এসব অভিবাসীর তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এপি ও ইউরোনিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় অভিবাসী হতে বিপুল সংখ্যক মানুষের চেষ্টা এবং ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা বেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচিত। ইদানীং বসনিয়া-হার্জেগোভিনা হয়ে ক্রোয়েশিয়া অতিক্রম করে স্লোভেনিয়া হয়ে উঠেছে ইউরোপে ঢোকার রুট।

মধ্য ইউরোপের এই তিনটি দেশ থেকে অড্রিয়াটিক সাগর পাড়ি দিলেই ইতালি। বসনিয়ার জঙ্গলে আটকে পড়া অভিবাসীদের পরবর্তী গন্তব্য ক্রোয়েশিয়া বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, বুধবার শীতের সকালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মরক্কো ও আলজেরিয়ার অভিবাসীদের নিজেদের অস্থায়ী তাঁবুতে জবুথবু অবস্থায় কাঁপতে দেখা যায়। বসনিয়ার ভেলিকা ক্লাদুসা শহরের উল্টো দিকে উঁচু পাহাড়ের ঘন জঙ্গল এখন তাদের আশ্রয়। পলিথিন, কার্ডবোর্ড, গাছের শাখাপ্রশাখা আর নাইলনের শিটে তারা তাঁবু তৈরি করে নিয়েছেন। সেখানে একটি পরিত্যক্ত কারখানার ভাঙা ভবনে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন।

Manual4 Ad Code

রয়টার্সের সাংবাদিক অনেককে দেখেছেন আগুন ধরিয়ে শীত পোহাতে। সেই আগুনে রান্নার কাজও চলছিল। আগুনে পোড়া কাঠের ছাই দিয়ে কেউ কেউ দাঁত মাজছিলেন। আবার কেউ পাশের ছোট নালা থেকে পানি নিয়ে আসছেন। কয়েকজনকে সেই পানিতে গোসল করতে ও কাপড় ধুতেও দেখা গেছে।

বাংলাদেশি মোহাম্মদ আবুল রয়টার্সকে বলেন, এখানে অনেক সমস্যা। পানি নেই, টয়লেট নেই, কোনো চিকিৎসার বন্দোবস্তও নেই। আমরা খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।

Manual3 Ad Code

তিন দশক আগে যুদ্ধের পর অভিবাসীদের স্বাগতই জানাচ্ছিল বসনিয়া; কিন্তু এখন তাদের বোঝা মনে করছে। ইইউ তাদের অভিবাসন সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তন করে আরও কঠোর করছে বলে তাড়াহুড়ো করে ঢুকতে চাইছে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। অন্য দেশ থেকেও অভিবাসীরা বসনিয়া হয়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় ঢুকতে চেষ্টা করছে।

Manual3 Ad Code

বসনিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা আজুর স্লিভিচ রয়টার্সকে বলেন, সার্বিয়া হয়ে দ্রিনা নদী পেরিয়ে এই অভিবাসীরা আসছে। এর বিপদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই নদীটি যখন-তখন উত্তাল হয়ে ওঠে। ফলে অনেক সময় নৌকা ডুবে যায়। অনেকে মারাও যায়।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code